প্রশংসার পরেই নবান্নে দিলীপকে আমন্ত্রণ মমতার, তাৎপর্যপূর্ণ জবাব বিজেপির রাজ্য সভাপতির
মমতার প্রশংসার পরেই নবান্নে আমন্ত্রণ দিলীপকে, তাৎপর্যপূর্ণ জবাব দিলীপ ঘেষের
রাজভবনে চা-চক্র। সেই চা-চক্রেই দিলীপ ঘোষ (dilip ghosh), শুভেন্দু অধিকারীদের (suvendu adhikari) সঙ্গে সাক্ষাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) । সেখানেই কুশল বিনিময়ের পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে নবান্নে চা খেতে আমন্ত্রণ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কালীঘাটের বাড়িতে কালীপুজোতেও আমন্ত্রণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজভবনে চা-চক্র
রবিবার স্বাধীনতা দিবসের চা চক্রে হাজির ছিলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতো আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিলীপ ঘোষ ও তথাগত রায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্য বিনিময় হলেও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তা হয়নি। সূত্রের খবর অনুযায়ী সেখানে চায়ের কাপ নিয়ে আড্ডাই হয়েছে।

দিলীপ ঘোষের প্রশংসা মমতার মুখে
দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির রাজ্য সভাপতির প্রাতর্ভ্রমণ এবং শরীর চর্চার অভ্যাসকে প্রশংসা করেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে নবান্নে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি নিজের বাড়ির কালীপুজোতেই যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখেন বলেই জানা গিয়েছে।

দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া
কুশল বিনিময় হয়েছে। সেখানে মত বিনিময়ের জায়গা নেই। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নবান্নে যাওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেকথা স্বীকার করেছেন দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেছেন, দিলীপ ঘোষ কেন নবান্নে যান না। একদিন তাঁকে নবান্নে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সবার শরীর স্বাস্থ্য কেমন, কে ব্যয়াম করেন, কী খান, এইসব কথাই হয়েছে। পুরোটায় কোনও রাজনীতি ছিল না, ছিল সৌজন্য সাক্ষাত, বলেছেন দিলীপ ঘোষ।

বাকিরা ডায়লগ দেন, তিনি গোল দেন
এদিন দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ১৫ অগাস্টে ফুটবল খেলা হয়। দিলীপ ঘোষ নিজের ছোটবেলায় বাতাবি লেবু দিয়ে খেলার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, এরা রাজনীতির খেলাটাকে হিংসা খেলায় নিয়ে গিয়েছে। সিন্ডিকেট আর কাটমানির খেলায় নিয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ফুটবল ফিরে আসুক। মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, যুবক-যুবতীরা শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক করুক, বাংলার সম্মান বাড়াক। সেই জন্যই তাঁর মাঠে নামা। স্বাধীনতা দিবসের দিন তিনি ক্রিকেট খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিন দিলীপ ঘোষকে ইকো পার্কে দেখা গিয়েছে ফুটবল নিয়ে কসরত করতে। সে সম্পর্কে দিলীপ ঘোষ বলেন, বাকিরা ডায়লগ দেন, আর তিনি গোল দেন। ত্রিপুরায় খেলা হবে প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, সেখানে তো খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা সেখানে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। দুটো ঢিল পড়তেই বিপ্লব শেষ। কুণাল ঘোষের অভিযোগ ত্রিপুরায় গণতন্ত্র নেই। এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, উনি হয়তো ভুলে গিয়েছেন, বছর চারেক আগে উনি (কুণাল ঘোষ) যখন আদালতে যাওয়ার পথে ডাকাত কানি, চোরের রানি বলে সম্বোধন করতেন, সেই সময় পুলিশকর্মীরা গাড়িতে শব্দ করে, উলু দিয়ে কুণাল ঘোষের কথা যাতে কেউ শুনতে না পান সেই ব্যবস্থা করতেন। এখন তাই করা হচ্ছে সংসদে। সময় কখন কোন দিকে ঘোরে কেউ জানে না, শেষে বলেন দিলীপ ঘোষ।

মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্য নজর কাড়া
উল্লেখ করে রাখা ভাল, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর নেতৃত্বে বাম প্রতিনিধি দল নবান্নে গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে। সেখানে বাম প্রতিনিধিদলকে চা ও ফিস ফ্রাই খেতে দেওয়া হয়েছিল। সেই পর্ব রাজনীতি ফিসফ্রাই পর্ব নামেই চালু রয়েছে। যা নিয়ে বিজেপি নেতারা বামেদের কম কটাক্ষ করেননি। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষ কবে নবান্নে যান, কিংবা আদৌ সেখানে যান কিনা তার জন্য অপেক্ষা করে থাকতে হবে।
তবে রাজভবন হোক কিংবা অন্য কোথাও মুখ্যমন্ত্রী সৌজন্য দেখান। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাড়িতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে প্রয়াত প্রাক্তন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাসের মেয়ে অজন্তা বিশ্বাসের পরিবার করোনা আক্রান্ত হলে মুখ্যমন্ত্রী ফোন করে খোঁজ নেন এবং চিকিৎসারও ব্যবস্থা করেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় করোনায় আক্রান্ত হলে, তাঁর চিকিৎসার সব দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে নিয়েছিল রাজ্য সরকার।












Click it and Unblock the Notifications