মুকুল-বিয়োগে মুষলপর্ব শুরু! দিলীপ-বাবুলদের কোন্দলে ‘তাসের ঘরে’র মতো ভাঙতে পারে বিজেপি
একুশের নির্বাচনে ভরাডুবি, তারপর মুকুল রায়ের বিজেপি ত্যাগ। উলটপুরান শুরু হয়ে গেল বঙ্গ রাজনীতিতে। ভোটের আগে যে ছবি দেখা যেত তৃণমূলে, সেই ছবি এখন বিজেপিতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ বেসুরো।
একুশের নির্বাচনে ভরাডুবি, তারপর মুকুল রায়ের বিজেপি ত্যাগ। উলটপুরান শুরু হয়ে গেল বঙ্গ রাজনীতিতে। ভোটের আগে যে ছবি দেখা যেত তৃণমূলে, সেই ছবি এখন বিজেপিতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ বেসুরো। কোন্দল লেগেই রয়েছে। আর দিলীপ বনাম বাবুল তো, কাল সৌমিত্র বা শুভেন্দু। রাজনৈতিক মহল মনে করছে বঙ্গ বিজেপি তাসের ঘরের মতো ভেঘে পড়তে পারে।
পিকে হতে চান লিঙ্কম্যান! ২০২৪-এর লক্ষ্যে কষছেন মোদীকে মাত দেওয়ার পরিকল্পনা

বিজেপিতে স্ব-স্ব প্রধান অবস্থা, সিঁদুরে মেঘ গেরুয়া-আকাশে
মুকুল রায় গেরুয়া শিবিরের থাকাকালীন বঙ্গ বিজেপিতে দুটি গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল। ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীর যোগদানের পর আরও একটা গোষ্ঠীর উদয় হয়। আর ভোট মিটতেই বিজেপিতে স্ব-স্ব প্রধান অবস্থা। প্রথম বিজেপিতে যাওয়া দলবদলুরা ঘরওয়াপসির সুর তুলে দেন। তাঁরা শুধু তৃণমূলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়।

মুকুল দল ছাড়তেই বিজেপি তটস্থ হয়ে ওঠে ভাঙন রুখতে
এরই মধ্যে মুকুল রায় স্ব-পুত্র ফিরে যান তৃণমূল কংগ্রেসে। তারপরই শুরু হয়ে আসল খেলা। কারণ মুকুল রায় ভাঙনের খেলায় পটু। বিজেপিতে শুরু হয়ে যায় মুকুল-আতঙ্ক। মুকুল রায় সুর তুলে দেন অন্তত ৩৫ জন বিধায়ক-সাংসদ-নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিজেপি তটস্থ হয়ে ওঠে, বেসুরো নেতাদের খুঁজতে।

তৃণমূলে ফেরার জন্য উশখুশ করছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তো মুকুল রায়ের আগে থেকেই তৃণমূলে ফেরার জন্য উসখুস করছেন। তিনি বিভিন্ন তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরার পখ তৈরি করতে চাইছেন। স্বজন হারানো তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে যাচ্ছেন সমবেদনা জানাতে। এরই মধ্যে তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও মুকুল রায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁদের স্বজন-বিয়োগের যন্ত্রণার সাথী হতে।

ভুল স্বীকার করে পুরনো দলে ফিরতে আগ্রহী অনেকে
এছাড়া ভোট মিটতেই বিজেপি ঘর ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে যেতে চেয়ে চিঠি লিখেছেন অনেকে। সেই তালিকায় রয়েছেন সোনালী গুহ, সরলা মুর্মু, অমল আচার্য, দীপেন্দু বিশ্বাস-রা। তাঁরা ভুল স্বীকার করে ফের পুরনো দলে ফিরে আসতে চান। কিন্তু তাঁদরে নিয়েও সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বাংলা থেকে চারজনকে মন্ত্রী করেও কোন্দল তুঙ্গে বিজেপিতে
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলের পর বিজেপিতে আবার নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরীকে বাদ দিয়েছে বিজেপি। দুজনকে বাদ দিয়ে চারজনকে বাংলা খেকে মন্ত্রী করেছে। তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। বিজেপিতে বেড়েছে কোন্দল। দিলীপ-বাবুল বিতর্ক সামনে এসেছে। আবার সৌমিত্র খাঁকে নিয়েও অস্বস্তি বেড়েছে।

রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দিল্লি-যাত্রা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সৌমিত্র খাঁ, বাবুল সুপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে প্রতিদিন বোমা ফাটিয়ে চলেছেন। এর ফলে বিজেপিতে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। এই অস্বস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় এখনও বের করতে পারেনি বিজেপি। বিজেপি এঁদের বিরুদ্ধে কতখানি কঠোর হয়, সেটাই দেখার। এরই মধ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দিল্লি-যাত্রা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অন্দরের কোন্দল মিটিয়ে আগামীর লক্ষ্যে স্থির হতে চায় বিজেপি
বিজেপিতে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল হতে পারে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে। একদিকে বিজেপিতে ভাঙন রোখা। আর অন্যদিকে বিজেপির অন্দরের কোন্দল মিটিয়ে আগামীর লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দলকে। একটা নির্বাচনে হেরে সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি। সামনে আরও অনেক নির্বাচন রয়েছে, তার জন্য প্রস্তুত হতে সঠিক একটা দল নির্বাচন করা।

নতুন করে সাংগঠনিক রদবদলে দলকে চাঙ্গা করতে
আসলে মুকুল-ঘনিষ্ঠ অনেক নেতা বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাঁরা এখন বিজেপিতে প্রায় নিষ্ক্রিয়। তাঁদের থেকে দলকে মুক্ত করতে না পারলে, সেভাবে এগোতে পারবে না বিজেপি। বিজেপি চাইছে নতুন করে সাংগঠনিক রদবদলে দলকে চাঙ্গা করে তুলতে। বিজেপিতে সক্রিয় সদস্যদের গুরুত্ব দিয়েই নতুন টিম তৈরি করতে নামছে বিজেপি।

দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে সমন্বয় দরকার
বিজেপি চাইছে না রাজ্যে দলের অন্দরে কোনও সংঘাত থাকুক। যে করেই হোক সংঘাত দূর করে এগোতে হবে। এমনিতেই বঙ্গ বিজেপির প্রধান দিলীপ ঘোষ আর বিধানসভার দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উভয়ের মধ্যে সমন্বয় দরকার। লালমাটি আর বালুমাটির নেতা হাতে হাত ধরে সোনার বাংলা গড়ার সংকল্প নিলেও, ভোট পরবর্তী সময়ে তাঁদের মতবিরোধী প্রকট হয়েছে। তা নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক পথ বেছে নিতে হবে।

যদি বিজেপির অনেক নেতাও মুকুল-সংসর্গে দল ছাড়েন!
মুকুল-ঘনিষ্ঠ বহু নেতা পদে থেকে সেভাবে কাজ করছেন না। বিশেষ করে মুকুল রায় চলে যাওয়ার পর তাঁরা নিষ্ক্রিয়। তাঁদের অনেকেই তৃণমূলের পথে পা বাড়িয়ে রয়েছেন। আবার আদি বিজেপির অনেক নেতাও মুকুল-সংসর্গে দল ছাড়তে পারেন। তা-ই যদি হয়, সেটা হবে বিজেপির পক্ষে সমূহ বিপদের। বিজেপি চাইছে নতুনরা যাক ক্ষতি নেই, আদি নেতাদের ধরে রাখতে হবে। তাঁরাই দলের শক্তি।

৭৭ থেকে ৭৪-এ, নেমে যেতে পারে ৭৩-এও
বিজেপি ২০০-র লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে নেমেছিল। কিন্তু তাঁদের আসনপ্রাপ্তি ১০০-ও অতিক্রম করেনি। থেমে গিয়েছে ৭৭-এই। আর দু-মাস না যেতে যেতেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৭৭ থেকে কমে হয়ে গিয়েছে ৭৪। আরও এক বিধায়ক কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ বিজেপি নেমে যেতে পারে ৭৭ থেকে ৭৩-এ।

তৃণমূলে ফেরা সময়ের অপেক্ষা মুকুল-ঘনিষ্ঠ বিধায়কের
মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ধারাবাহিকভাবে দূরত্ব বাড়িয়ে চলেছেন বিজেপির সঙ্গে। ফলে জল্পনা বেড়েছে তাঁকে নিয়ে। বিশ্বজিৎ এদিন মুখ্যসচেতকের ঘরে যেভাবে তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতেছেন, তাতে তাঁর তৃণমূলে ফেরা সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজেপি যখন আন্দোলনে, বিধায়ক তখন তৃণমূলের ঘরে
তিনি বিজেপির কার্যকারিনী বৈঠকে যাননি, আবার বিজেপির কর্মসূচিতেও অংশ নেননি। বিজেপির নেতা-কর্মীরা যখন আন্দোলন করছেন, তখন বাগদার বিধায়ক তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় খোশগল্প করছেন। এই ছবিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে আগামী দিনে কী হতে চলেছে। কোন পথে হাঁটতে চলেছেন বিজেপির বিধায়করা।

বিশ্বজিৎকে নিয়ে বিজেপির চিন্তা কেন নিছক নয়
সম্প্রতি বিজেপির পার্টি অফিসে প্রশিক্ষণ শিবিরে বিশ্বজিৎ দাস-সহ ছ-জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। তবে বাকিরা অনুপস্থিত থাকলেও বিজেপি নেতৃত্বকে তা জানিয়েছিলেন। শুধু ব্যতিক্রম ছিলেন বিশ্বজিৎ। স্বভাবতই বিশ্বজিৎকে নিয়ে বিজেপি চিন্তায় ছিল। সেই চিন্তা যে নিছক নয়, প্রমাণ মিলল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই। বিশ্বজিৎ বেমালুম জানিয়ে দিলেন, তিনি জানতেন না বিজেপির কর্মসূচির ব্যাপারে।

বেসুরোদের নিয়ে বিজেপির কী ভাবনা, বৈঠকে নেতৃত্ব16
বর্তমানে আবার বিজেপিতে বেসুরো রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সব্যসাচী দত্ত, আবার সৌমিত্র খাম থেকে বাবুল সুপ্রিয়ও বেঁকে বসেছেন। বাবুলও বিজেপি ছাড়তে পারেন, কিংবা রাজনীতি ছেড়ে দিতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি আবার তৃণমূলকে 'ফলো' করা শুরু করেছেন বলে বাতাসে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বিজেপি তাঁদের নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications