মতুয়ারাই ডিসাইডিং ফ্যাক্টর ৭০টি কেন্দ্রে! ৩ কোটি ভোটারের দিকে চেয়ে বিজেপি ও তৃণমূল
মতুয়ারাই ডিসাইডিং ফ্যাক্টর ৭০টি কেন্দ্রে! ৩ কোটি ভোটারের দিকে চেয়ে বিজেপি ও তৃণমূল
দরজা কড়া নাড়ছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে- মতুয়া ভোট। সমগ্র রাজ্যজুড়ে ৩ কোটিরও বেশি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। ৭০টিরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রভাব রয়েছে মতুয়াদের। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি নদিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন ছোট পকেটে রয়েছেন মতুয়ারা।

মতুয়া ভোটে বিজেপি থাবা
পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১০টি তফসিলিদের জন্য সংরক্ষিত এবং দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এসসি জনসংখ্যা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই দশটি তফসিলি আসনের চারটিই জিতেছিল। মতুয়া ভোটে বিজেপি থাবা বসিয়েছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল দেখিয়েছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে পরিণত হয়েছে।

মতুয়া এবং সিএএ একুশের আগে
সিএএ কেন মাতুয়া সম্প্রদায়ের উপর এতটা প্রভাব ফেলেছে। তা বুঝতে সম্প্রদায়ের ইতিহাস জানতে হবে। মতুয়ারা হলেন নমশূদ্র। এটি এমন একটি বর্ণ গোষ্ঠী যা চার স্তরের হিন্দু বর্ণ ব্যবস্থার বাইরে পড়ে। এদের আগে চন্ডাল নামে অভিহিত করা হত। আজও বাংলার বেশিরভাগ অঞ্চলে ওই শব্দের ব্যবার রয়েছে।

মতুয়া আন্দোলন অবিভক্ত বাংলায়
মতুয়া আন্দোলন অবিভক্ত বাংলায় বর্ণ বিদ্রোহ হিসাবে শুরু হয়েছিল। ১৯ শতকের মধ্যভাগে পূর্ব বাংলার ফরিদপুর জেলায় এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর, যিনি কৃষক নমশূদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি মতুয়া মহাসঙ্ঘ বা বৈষ্ণব হিন্দুধর্মের মতুয়া সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ
১৮৭৮ সালে হরিচাঁদ ঠাকুরের মৃত্যুর পরে তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিলেন এবং সম্প্রদায়ের বৃহৎ অংশের মধ্যে এই আন্দোলনের তীব্রতা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরে আন্দোলন আরও কিছু দলিত দলও আকৃষ্ট হয়েছিল। নমশূদ্র এবং মতুয়া সম্প্রদায় উভয়ই স্বাধীনতার পূর্বে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এরপরে বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন মতুয়ারা।

মতুয়ারা শরণার্থী! বিজেপির পক্ষে সক্রিয়
মতুয়ারা তাই শরণার্থী। তাঁরা বিজেপির পক্ষে সক্রিয় হয়েছে। কারণ তাঁরা হিন্দু শরণার্থী, যাঁরা অন্য দেশে নির্যাতিত হয়ে দেশভাগের পর এদেশে এসেছিল। তাঁরা যে দেশে বাস করছেন, সেখানে সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব পাবেন। বাংলার দক্ষিণে মতুয়া বর্ণ গোষ্ঠী এবং উত্তরে রাজবংশী বর্ণ গোষ্ঠী ২০১৯-এর সিএএ পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির প্রধান টার্গেট হয়ে ওঠে।

বিজেপি না তৃণমূলের দিকে মতুয়ারা
২০১৯-এর প্রাক্কালে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মতুয়াদের ভোট নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু প্রায় দু-বছর অতিক্রান্ত এখনও নাগরিকত্ব প্রদান করতে পারেনি তারা। তাই এবার ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা কোন পথে যাবে। বিজেপিকেই তাঁরা আঁকড়ে থাকবে, নাকি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বুঝে তৃণমূলের দিকেই ফিরে আসবে, তা নিয়ে চলছে চর্চা।

মতুয়াদের ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি
তৃণমূল বলছে, মতুয়ারা নাগরিক, নাগরিকদের আবার কী করে নাগরিকত্ব দেবে। মতুয়ারা যদি নাগরিক না হবে, তাহলে সমস্ত নাগরিক পরিষেবা পাচ্ছেন কী করে, আর মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হয়ে সংসদেই বা তাঁরা যাচ্ছেন কী করে? আসলে নাগরিকত্বের লোভ দেখিয়ে মতুয়াদের ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications