বেডের আকাল! যাদের জেনারেল ওয়ার্ডেও ভর্তি থাকার প্রয়োজন নেই তাঁদের দ্রুত ছুটি দেওয়ার নির্দেশ
করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নিয়েছে বাংলায়। প্রত্যেকদিনই উত্তরোত্তর বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সারা দেশেই অক্সিজেন জোগানের সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাতেও ছবিটা এক।
করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নিয়েছে বাংলায়। প্রত্যেকদিনই উত্তরোত্তর বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সারা দেশেই অক্সিজেন জোগানের সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাতেও ছবিটা এক। বহু জায়গাতেই অক্সিজেন না পেয়ে বাড়িতেই মৃত্যু হচ্ছে। এই অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স রাজ্যের।
ইতিমধ্যে রাজ্যের পক্ষ থেকে বাড়তি অক্সিজেন না নিয়ে যাওয়ার আবেদন করে চিঠিও লেখা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। ভ্যাকসিন নিয়ে চলছে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও। চলছে বেড পাওয়া নিয়েও বিভিন্ন জটিলতা।

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কড়া বার্তা
বেড পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ি বসেই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে। এই অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কড়া বার্তা রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তীর। স্বাস্থ্য দফতরের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দুটি ছবি পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে মোবাইলে কথা বলছেন করোনা রোগী। এই ছবি একাধিক হাসপাতালে দেখা গিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়াই অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অথচ অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে এবং বাড়িতে রয়েছেন, যাঁদের অবিলম্বে সিসিইউ অথবা এইচডিইউ-তে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে যাঁদের অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই তাঁদের জেনারেল ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা এবং যাদের জেনারেল ওয়ার্ডেও ভর্তি থাকার প্রয়োজন নেই তাদের হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা।

আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন
সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যাঁরা নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে তীব্র তোপ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। একই এই বিষয়ে হাসপাতালের সুপার ও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। হাসপাতালের সুপার ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সিসিইউ ও ওয়ার্ডে গিয়ে সরেজমিনে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা। আর তা পরীক্ষা করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যাদের এই মুহূর্তে সত্যিই বেডের প্রয়োজন রয়েছেন তাঁদের দ্রিত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের ১৬ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার
ক্রমশ কলকাতার ছবি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। একাধিক জায়গা থেকেই বাড়িতেই করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। ঠিক সময়ে বেড-অক্সিজেন না পেয়ে এভাবে মৃত্যু হচ্ছে বলে দাবি। অন্যদিকে, কলকাতার বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের ১৬ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার করোনা আক্রান্ত। শুধুমাত্র এনআরএসেই সংক্রমিত ৪ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার। ফলে শহরের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। ডাক্তারদের একাংশ বলছে, যেভাবে করোনা আক্রান্ত হচ্ছে তাতে আগামিদিনে সরকারি হাসপাতালগুলি চালানো অসম্ভব হবে বলে দাবি।

দৈনিক আক্রান্তের সঙ্গে ১৩ হাজার ছুঁইছুঁই
উল্লেখ্য, রাজ্যে এবার দৈনিক আক্রান্তের সঙ্গে ১৩ হাজার ছুঁইছুঁই। ভয়ঙ্কর রেকর্ড। শুধু আক্রান্তের সংখ্যাই বাড়ছে না। মৃত্যু মিছিলও অব্যাহত। দিনে দিনে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায়। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনায় সংখ্যাটা আড়াই হাজারেরও বেশি। প্রতিদিন বহু মানুষ করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। উত্তর ২৪ পরগনায় ১০ জনের। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার ৮২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এ রাজ্যে। অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা একলাফে বেড়ে হয়েছে ৭৪ হাজার ৭৩৭। ফলে এখনই যদি সাবধান না হওয়া যায় তাহলে আগামিদিনে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হতে পারে বলে আশঙ্কা।












Click it and Unblock the Notifications