ভোট-যুদ্ধে গরহাজির, বাংলার কংগ্রেস গ্যালারি থেকে উপভোগ করবে উপনির্বাচনী ম্যাচ
বাংলার সমস্ত রাজনৈতিক দল ভবানীপুর উপনির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুধু বাংলার তথা দেশের ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি’ কংগ্রেসকে গ্যালারি থেকে ম্যাচ দেখতে হবে।
বাংলার সমস্ত রাজনৈতিক দল ভবানীপুর উপনির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুধু বাংলার তথা দেশের 'গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি' কংগ্রেসকে গ্যালারি থেকে ম্যাচ দেখতে হবে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিয়ে ভোট-যুদ্ধে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। তা হতাশ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে

কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত বাংলার নেতাদের কাছে পরাজয়ের অনুভূতি স্পষ্ট করেছে। আসন্ন ভবানীপুর উপনির্বাচন নিয়ে সংসদ সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য এমনই মত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "কংগ্রেস 'ভোট বাজারে' অনুপস্থিত। অধীর রঞ্জন চৌধুরী ঘোষণা করলেন কংগ্রেস ভবানীপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। ঘোষণার সময় তাঁর শারীরিক ভাষাও স্পষ্ট করেছে যে তিনি হতাশ, দল হতাশ হয়ে পড়েছে এই সিদ্ধান্তে।
প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার কংগ্রেস কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না বাংলায়। এবং এই ধারা কখনও উপনির্বাচনের জন্য ঘটেনি। শুধু ভবানীপুরেই নয়, কংগ্রেস এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে। একসময় দলের শক্ত ঘাঁটিতে কংগ্রেস প্রার্থী দিতে অক্ষম ।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুরের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের দুটি আসনেও ভোট হচ্ছে। উভয় আসনেই প্রার্থীদের মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত হয়ে যায়। তখন যে মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন সেই বিকল্প মনোনয়নের ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করবে। জঙ্গিপুরে কংগ্রেস তার বাম-জোটের শরিকের জন্য আসনটি ছেড়েছিল। আরএসপির জেন আলম মিয়ান এখন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এই কেন্দ্রে করোনার কারণে মৃত্যু হয়েছিল আরএসপি-র প্রদীপ নন্দী। জায়গায় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জঙ্গিপুর কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউল হক মারা যান এবং তার ভাই কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন না।
মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ সর্বদা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। যদিও কংগ্রেস কর্মীরা বলছেন, মুর্শিদাবাদেও তারা ম্যাচে নেই। তৃণমূল সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর উভয় নির্বাচনেই জয়লাভ করলেও এই দুটি আসনে কংগ্রেসের রেকর্ড ভালো। মুর্শিদাবাদ এখন পর্যন্ত অধীর চৌধুরীর দুর্গ বলে বিবেচিত হয়।
জঙ্গিপুর বিধানসভা আসনটি জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে পড়ে, যা একসময় প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আসন ছিল। তারপরে তাঁর ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় জঙ্গিপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন তৃণমূলের খলিলুর রাহমান।
এ প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী বলেন, "কিছু কিছু সময়ে ভুল হয়, কিন্তু আমি আশাবাদী বিষয়গুলি খুব শীঘ্রই বদলে যাবে। ডিমোটিভেশনের কোন সুযোগ নেই, আমরা কঠোর পরিশ্রম করব।" হয়তো কংগ্রেস এই পদক্ষেপ থেকে জাতীয়ভাবে লাভবান হবে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তাদের অস্তিত্ব আরও লোপ পাবে বলে আশঙ্কা।
কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুসারে, এবার তারা বামেদের পক্ষেও প্রচার চালাবে না। ফলে বাংলায় তিবন কেন্দ্রের নির্বাচন ও উপনির্বাচনকালে কংগ্রেসের নিচতুলার নেতা-কর্মীদের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে হবে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস কোন আসন পায়নি, এখন এই নির্বাচন-উপনির্বাচনে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে।












Click it and Unblock the Notifications