শোভন কি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিলেন একুশের ভোটচলাকালীনই, জবাব দিলেন বৈশাখী
একুশের ভোট চলছে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অন্তরালেই থেকে গিয়েছেন। এবার নির্বাচনের কাঁটে কা টক্করে অংশ নিয়েই তিনি পর্দানসীন হয়ে গেলেন ভোটের প্রাক্কালে।
একুশের ভোট চলছে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অন্তরালেই থেকে গিয়েছেন। এবার নির্বাচনের কাঁটে কা টক্করে অংশ নিয়েই তিনি পর্দানসীন হয়ে গেলেন ভোটের প্রাক্কালে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো ক্ষুরধার রাজনীতিক সন্ন্যাস নিয়ে নিলেন রাজনীতি থেকে। জোর জল্পনা চলছে রাজ্য-রাজনীতিতে।

ঝড় হঠাৎই থমকে গেল, শোভন চলে গেলেন আড়ালে
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ১৭ মাস পর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। বিজেপি তাঁকে কলকাতা জোনের পর্যবেক্ষক মনোনীত করার পরই প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন বান্ধবী বৈশাখীকে নিয়ে। কিন্তু বেহালা পূর্বে প্রচারের পরই তাঁর সেই ঝড় হঠাৎই থমকে গেল। তিনি চলে গেলেন আড়ালে।

বিজেপির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন, বার্তা শোভন-বৈশাখীর
এরপর বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়রা বেঁকে বসেন। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপির সঙ্গে তাঁদের সব সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা। একরাশ অভিমান নিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দল থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

শোভন-বৈশাখীকে প্রার্থী করেনি বিজেপি
শোভন চট্টোপাধ্যায় চেয়েছিলেন বেহালা পূর্ব থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে। তা হলে ওই কেন্দ্রে স্বামী-স্ত্রীর লড়াই দেখতেন বেহালাবাসী। কিন্তু বিজেপি শোভনকে প্রার্থী করেনি। শোভনের আসনে অভিনেত্রী পায়েল সরকারকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। শোভনের আরও অভিযোগ, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও প্রার্থী করা হয়নি এবার নির্বাচনে।

বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্ন, জবাব দিয়েছেন বৈশাখী
তাই বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্ন করে আপাতত অন্তরালেই থেকে গিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূলেও ফিরে আসেননি, অন্য কোনও দলে যোগ দেননি, আর বিজেপিতেও সক্রিয় হননি। তাই তাঁকে নিয়ে জল্পনা কেন তিনি নিস্পৃহ। তিনি কি তবে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার ব্যাপারে মনস্থ করে ফেলেছেন? তার জবাব দিয়েছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

শোভনের রাজনৈতিক সন্ন্যাস প্রসঙ্গে বৈশাখী
বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনের রাজনৈতিক সন্ন্যাস প্রসঙ্গে বলেন, রাজনীতি হল শোভনবাবুর ধর্ম। তাই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। শোভনবাবু রাজনীতি ছাড়তে পারবেন না। তিনি বাংলার রাজনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবেন, তা তিনি আজও বিশ্বাস করেন। আর তা নিয়ে কোনও দ্বিমতও থাকতে পারে না।

বিজেপি তো শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেয়নি!
কিন্তু একুশের নির্বাচন চলে গেল, শোভনবাবু তো সক্রিয় নন! বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখন সব নেতারাই ভোট নিয়ে ব্যস্ত। বিজেপি তো শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেয়নি। শোভনদার কিছু অভিযোগ ছিল, তার ভিত্তিতেই তিনি নিজে সরে এসেছেন। বিজেপিকর্মীরা এখনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

শোভন চট্টোপাধ্যায় কবে রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরবেন
কিন্তু নির্বাচনের সময় যদি তিনি মূলস্রোতে না থাকেন, তবে পরবর্তী সময়ে কি তিনি গুরুত্ব ফিরে পাবেন? বৈশাখী বলেন, সময়ই বলবে শোভন চট্টোপাধ্যায় কবে রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরবেন। কোন দলে সক্রিয় হবেন, তাও জানতে অপেক্ষা করাতে হবে। কিন্তু তৃণমূলে যে আর তাঁরা ফিরছেন না, তা স্পষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications