প্রত্যেকদিন বাড়ছে সেকেন্ড ডোজ নেওয়ার চাহিদা! পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা কলকাতা পুরসভার
সামনেই তৃতীয় ওয়েভ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। আর তার আগে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শেষ করতে বলছেন গবেষকরা। কিন্তু কোথায় ভ্যাকসিন? চাহিদার তুলনাতে ভ্যাকসিন নেই এই নিয়ে বারবার অভিযোগ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সামনেই তৃতীয় ওয়েভ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। আর তার আগে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শেষ করতে বলছেন গবেষকরা। কিন্তু কোথায় ভ্যাকসিন? চাহিদার তুলনাতে ভ্যাকসিন নেই এই নিয়ে বারবার অভিযোগ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবারও ভ্যাকসিন না থাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কার্যত তোপ দেগেছেন মমতা।
তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে রাজ্যে ১৪ কোটি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন সেখানে ভ্যাকসিনের অভাবে দেওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া।

সেকেন্ড ডোজের চাহিদা বাড়ছে
কলকাতা পুরসভা স্বাস্থ্য দফতর থেকে চার লক্ষ্য ভ্যাকসিন পেয়েছে। কিন্তু সেকেন্ড ডোজের চাহিদা প্রত্যেকদিন পাহাড় সমান হচ্ছে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। দিন ১৫ দিন আগেও যেখানে মাত্র ২০ হাজার সেকেন্ড ডোজের চাহিদা ছিল তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজারে। প্রায় এক ধাক্কায় আড়াই গুণ বেড়ে গিয়েছে সেই সংখ্যাটা। কীভাবে এই ডোজ দেওয়া সম্ভব সেটাই এখন চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে।

ক্লিনিক নির্দিষ্ট করেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না
সংখ্যাটা প্রত্যেকদিন বাড়তে থাকছে। ইতিমধ্যে কলকাতা পুরসভা অন্তত ৩০টি ক্লিনিক নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। যেখান থেকে প্রত্যেকদিন সেকেন্ড ডোজ দেওয়ার কাজ চলছে। প্রত্যেকটি ক্লিনিক থেকে প্রত্যেকদিন ৫০০ জনকে করোনার সেকেন্ড ডোজ দেওয়ার পরেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। পুরসভার এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, চাহিদার সঙে পাল্লা দেওয়া যাচ্ছে না। আর সেই কারণে প্রত্যেকদিন করোনার সেকেন্ড ডোজ নেওয়ার তালিকাটা লম্বা হচ্ছে। পুরসভার ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, বুধবার মাত্র ১১ হাজার মানুষকে করোনার সেকেন্ড ডোজ দেওয়া গিয়েছে। এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, বুধবার ১১ হাজার জনকে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। ৮৪ দিনের মেয়াদ হিসাব করলে বুধবার অন্তত ৫০ হাজার জনের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার কথা ছিল। সুতরাং বাদ পড়ে গেলেন ৩৯ হাজার জন। বৃহস্পতিবার নতুন করে ১৫ হাজার জনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময় চলে আসবে। ফলে ৩৯ হাজারের সঙে এই সংখ্যাটা যোগ হলে আরও বেড়ে যাবে। ফলে দ্বিতীয় ডোজ বাকি আছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে। আর তা সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না পুরসভার পক্ষেও। কারণ বিশাল সাপ্লাই এই ভ্যাকসিনের।

প্রত্যেকদিন বাড়ানো হচ্ছে টার্গেট
যদিও পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সামাল দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকদিন পুরসভা ভ্যাকসিন দেওয়ার টার্গেট বৃদ্ধি করছে। প্রত্যেকদিন ১০ হাজার, এরপর ১৫ হাজার এরপর ২০ হাজার। পাঁচ হাজার করে অতিরিক্ত লোকলে ভ্যাকসিন দিচ্ছে পুরসভা। জুনের শেষে একদিনে কলকাতায় ৬২ হাজার লোকলে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এভাবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে।












Click it and Unblock the Notifications