বিজেপিতে বেসুরো শুভ্রাংশুর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অর্জুন, মুকুলের সঙ্গে চেনা দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
শুভ্রাংশু রায়ের বেসুরো মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন আরও এক তৃণমূল-ত্যাগী নেতা অর্জুন সিং। শুভ্রাংশু মন্তব্য করেন, হয়তো তাঁর রাজনৈতিক পাপের জন্যই মা অসুস্থ হয়েছেন।
শুভ্রাংশু রায়ের বেসুরো মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন আরও এক তৃণমূল-ত্যাগী নেতা অর্জুন সিং। শুভ্রাংশু মন্তব্য করেন, হয়তো তাঁর রাজনৈতিক পাপের জন্যই মা অসুস্থ হয়েছেন। শুভ্রাংশুর মুখে এই কথা শোনার পর বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বলেন অবৈজ্ঞানিক কথা বলছেন শুভ্রাংশু। তাঁকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন তাঁরাও এবার প্রায়শ্চিত্য করবেন!

১
শুভ্রাংশুর বিরুদ্ধে অর্জুন সিং সরব হওয়ার পর বিজেপির অন্দরের চেনা দ্বন্দ্ব আবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। অর্জুন ও মুকুল শিবিরের মধ্যে দূরত্ব রাজনীতিতে অজানা নয়। তৃণমূলে থাকাকালীন দ্বন্দ্ব ছিল, সেই দ্বন্দ্ব বিজেপিতে গিয়েও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। একুশের নির্বাচনের পর সেই দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। এমনকী মুকুল-ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, বীজপুরে শুভ্রাংশুর হারের পিছনে অর্জুনের ভূমিকা রয়েছে।
২
বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণাদেবীর অসুস্থতার পর তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে এসে তাঁকে দেখে গিয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই শুভ্রাংশুকে নিয়ে জল্পনার মাত্রা বেড়েছে। তার আগে থেকেই তিনি বেসুরো বাজছিলেন। সম্প্রতি একটি পেসবুক পোস্টে তিনি চর্চার বিষয় হয়ে গিয়েছিলেন।
৩
আর এ প্রসঙ্গে শুভ্রাংশু সম্প্রতি বলেন, এমনটাও হতে পারে, আমি যে পাপ করেছিলাম তার পরিণতিতেই মাকে এত ভুগতে হচ্ছে। আমরা ভোটের প্রচারের ভেদাভেদের রাজনীতি করেছিলাম। তখন যাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম, তাঁরাই এখন আমার মায়ের সুস্থতা কামনা করে চাদর চড়াচ্ছেন। অনুশোচনার সুরে তিনি বলেন, বাবার নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা কর্মীরা রোজা রাখলে মা তাঁদের জন্য সেহরি বানিয়ে রাখতেন।
৪
আর শুভ্রাংশুর এহেন মন্তব্যের পরই বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং বলেন, যে পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের কথা বলা হচ্ছে, তার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এসবই অর্থহীন কথাবার্তা। এর কোনও মানে হয় না। তাঁর কথা শুনে যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরাই প্রায়শ্চিত্তের করবেন এবার। শুভ্রাংশু বেসুরো হওয়ায় এভাবেই গর্জে ওঠেন তিনি
৫
শুভ্রাংশু বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ বিভাজনমূলক রাজনীতি গ্রহণ করে না। তা আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি। তাই আমার মনে হয়েছে রাজনীতিতে যে কোনও কিছুই সম্ভব। তাঁর মা কৃষ্ণা রায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন। বাবা মুকুল রায়ও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। এই অবস্থায় তিনি বলেন, "আমি কৃতজ্ঞ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন মাধ্যমে আমার মা-বাবার শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিয়েছেন ভিন্ন দলে থাকা সত্ত্বেও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে এসে আমার মাকে দেখে গিয়েছেন। তাতে আমি অভিভূত।












Click it and Unblock the Notifications