বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক সারলেন অমিত শাহ, ডাক পেলেন দিলীপ ঘোষও
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ সল্টলেকের একটি হোটেলে রাজ্য বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করলেন। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির পর্যালোচনা করাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
এই রুদ্ধদ্বার সভায় দলের বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদ, বিধায়ক, পৌর সংস্থার কাউন্সিলর এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা দূরে থাকা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকেও এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়বস্তু তৎক্ষণাৎ প্রকাশ না হলেও, সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে আমন্ত্রিত সদস্যদের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত অমিত শাহ এই নেতাদের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ প্রচারের রূপরেখা জানতে চেয়েছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে নিজের রণকৌশলগত ভাবনা ভাগ করে নেন।
দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ জানানো প্রসঙ্গে ওই নেতা বলেন, দিঘার জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্সের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ-এর ছবি টিভিতে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে দলের পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে ওই নেতার কথায়, সম্ভবত তাঁর তথাকথিত 'কুলিং অফ পিরিয়ড' এবার শেষ হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে তিনি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছেন।
দিলীপ ঘোষকে বিজেপির অন্যতম সফল রাজ্য সভাপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর নেতৃত্বেই দলটি রাজ্য বিধানসভায় মাত্র তিনটি আসন থেকে ৭০টিরও বেশি আসনে উঠে আসে এবং ২০১৯ সালে ১৮টি লোকসভা আসন দখল করে। তাঁর 'ফায়ারব্র্যান্ড' উপস্থিতি এবং আক্রমণাত্মক প্রচার শৈলী দলের আসন্ন নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "দলের প্রত্যেকেই উজ্জীবিত। আমরা ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করব এবং এই রাজ্যে প্রকৃত পরিবর্তন আনব।"
ইতিমধ্যেই অমিত শাহ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেন যে, তাঁর সরকার নির্বাচনী লাভের জন্য বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশে মদত দিয়ে রাজ্যের জনবিন্যাসকে "বিপজ্জনকভাবে পরিবর্তন" করছে এবং ব্যাপক দুর্নীতিতে লিপ্ত। বিজেপি'র ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশের ইস্যুটিই মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে বলেও শাহ ঘোষণা করেন।
দলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠকের পর, শাহ শহরের একটি প্রেক্ষাগৃহে দলীয় কর্মীদের সম্মেলনে ভাষণ দেন। এরপর তিনি মধ্য কলকাতার ঠনঠনিয়া কালী মন্দিরেও যাবেন। এরপর দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।












Click it and Unblock the Notifications