আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে শিল্পবান্ধব রাজ্য চান প্রধানমন্ত্রী মোদী, সিঙ্গুরের ক্ষত মুছতে পারবে তো বাংলা!
আত্মনির্ভরতার পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে চান মোদী সরকার। ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে পৌঁছে দেওয়ার আসল প্যান্ডুরাবক্সটা আজ খুলে গিয়েছে।
আত্মনির্ভরতার পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে চায় নরেন্দ্র মোদী সরকার। ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে পৌঁছে দেওয়ার আসল প্যান্ডুরা বক্সটা আজ খুলে গিয়েছে আত্মনির্ভর ভারত প্যাকেজের চতুর্থ দফায় ঘোষণায়। বেসরকারি করণ আর শিল্পস্থাপন এই দুই টার্গেটেই যে তাঁর সরকার এগোচ্ছে সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদী সরকার। আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দেশে এখন সবচেয়ে জরুরি শিল্পস্থাপন। আর সেই শিল্পস্থাপনের পথ সুগম করে দেবে মোদীর নির্বাচিত গোষ্ঠির কমিটি। তৈরি হচ্ছে শিল্পবান্ধব রাজ্যের তালিকা। তাতে থাকবেন তো বাংলা?

শিল্পই পথ
দেশকে আর্থিক দিক থেতে সমৃদ্ধ করতে পারে শিল্প। সেই নীতিতেই বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর দেশকে ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশে পৌঁছে দেওয়ার চাবি কাঠি যে শিল্প আর বিদেশি বিনিয়োগ সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে আজ। চতুর্থ দভার আত্মনির্ভর ভারত প্যাকেজে একাধিকাের ৮টি ক্ষেত্রে বেসরকারি করণের কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তার সঙ্গে এফডিআই বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে ৭৪ শতাংশ করা হয়েছে। একদিকে দেশিয় সামগ্রির বিক্রিতে জোর আর অন্যদিকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি দুইমুখী গতি ধরে রাখতে চান মোদী।

শিল্প টানতে কমিটি
দেশের পরিবেশ শিল্পের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেকারণে শনিবারে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকে ছাপিয়ে গিয়েছে মেক ইন ইন্ডিয়ার লক্ষ্য। মোদী শিল্পবান্ধব রাজ্য চান। এই পথেই একমাত্র দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব দেশের, রাজ্যের। তলানিয়ে আসা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার এর থেক সহজ এবং লাভজনক পথ নেই। তাই কোন রাজ্য কতটা শিল্প বান্ধব তার তালিকা তৈরি হচ্ছে। কোন রাজ্যে শিল্পের বেশি অনুকূল পরিবেশ রয়েছে তা খতিয়ে দেখে তালিকা তৈরি করছে মোদী সরকার।

বাংলার সিঙ্গুর ক্ষত
কৃষি আমাদের ভিত্তি আর শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। সিঙ্গুর কাণ্ডের পর এই নীতি নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন্য প্রতিবছরই এলাহি আয়োজনে বেঙ্গল বিজনেস জামিটের আয়োজন করে থাকেন তিনি। তাতে রিলায়েন্সও সামিল হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে শিল্প এসেছে কী। সিঙ্গুরের ক্ষত আজও বয়ে চলেছে বাংলা। পশ্চিম মেদিনীপুরে জিন্দালদের কারখানা তৈরিকে ঘিরে অসন্তোষ মাথাচারা দিচ্ছে। শিল্প দেখলেই কেমন একটা গা ছাড়া ভাব তৈরি হয় রাজ্যে। টাটাদের ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন যে শিল্প নিয়ে রাজ্যে অবাঞ্ছিত ভিতি তৈরি করে রেখেছে। সেই সত্যিটা বহুবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

বাংলা পারবে তো
কৃষি বাংলার ভিত্তি বটে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এগোতে হলে শিল্পও জরুরি একথা মনে নিয়েছেন বাংলার তাবর রাজনীতিকরা। সেদিন যদি সিঙ্গুরের টাটাদের কারখানায় বাধা না দেওয়া হত তাহলে হয় তো পশ্চিমবঙ্গের ছবিটা আজ অন্যরকম হতো এখন তৎকালীন বিপক্ষ দলের অনেকেই মেনে নিয়েছে। সিঙ্গুর আন্দোলনের পর রাজ্যে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও বিনিয়োগ আসেনি। তৈরি হয়নি বড় কোনও শিল্প কারখানা। সামনেই আবার বিধানসভা ভোট। জটিলতা যে আরও বাড়বে তার অশনি সংকেত তৈরি হয়ে গেল এই চতুর্থ দফার আত্মনির্ভরতার প্যাকেজে।












Click it and Unblock the Notifications