দিনভর হয়রানির পর মৃত্যু হল ইছাপুরের করোনা আক্রান্ত তরুণের
দিনভর হয়রানি শেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ইছাপুরের করোনা আক্রান্ত যুবক শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি না। বহুক্ষণ ধরে বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকায় স্বাস্থ্যের চূড়ান্ত অবনতিতে রাতেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের।

শুভ্র জিতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই শরীর খারাপ থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই যুবকের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শুক্রবার ভোর ৫ টা নাগাদ যুবকের বাবা-মা তাকে কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আইসিসিইউ ফাঁকা না থাকায় তাকে বেলঘড়িয়া মিডল্যান্ড নার্সিংহোমে রেফার করে দেন কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালের ডাক্তাররা। এদিকে মিডল্যান্ড নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে যুবকের শরীরে করোনা ধরা পড়ে, তখন নার্সিংহোম জানিয়ে দেয়, এটা কোভিড হাসপাতাল নয়, আপনারা অন্য কোথাও নিয়ে যান।
এদিকে অ্যাম্বুল্যান্সে পড়ে থেকে ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে ওই যুবকের। যুবকের বাবা মা তাকে নিয়ে তাকে নিয়ে ফের কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে ফিরে আসেন। সেখানে চিকিৎসকরা পাশ্ববর্তী কোভিড হাসপাতাল সাগরদত্তে তাঁকে ভর্তি করানোর নির্দেশ দেন। এদিকে সাগরদত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বলা হয়, বেড নেই। একটু অক্সিজেনও ওই অসুস্থ যুবকের জন্য চাইলেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাবা-মায়ের।
এরপরেই চোখের সামনে সন্তানের স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে কার্যত দিশেহারা হয়ে যান বাবা। পাড়ার লোকের পরামর্শে স্বাস্থ্যভবনের হেল্পলাইনে তাঁরা ফোন করেন। সেখান থেকে জানানো হয়, কেউ কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়নি। সেই রিপোর্ট না পেলে তারা কিছু করতে পারবেন না। শেষপর্যন্ত কলকাতা পুলিশের হেল্পলাইনে ফোন করে যুবকের পরিবার। সেখান থেকে বেলঘড়িয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। বেলঘড়িয়া থানা থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। এবার যুবকের অ্যাম্বুল্যান্সের সঙ্গে যান পুলিশকর্মীরাও।
দুপুর দু'টো নাগাদ পুলিশের পরামর্শে ছেলেকে নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছন ওই দম্পতি। কিন্তু অভিযোগ, সেখানেও ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তারপরেই মায়ের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। ওয়ার্ডে ঢুকে ছেলেকে বাঁচানোর কাতর আর্তি নিয়ে চিৎকার শুরু করেন শুভ্রজিতের মা। ছেলেকে ভর্তি না নিলে আত্মহত্যার হুমকি দেন। তারপরেই স্ট্রেচারে করে ওই যুবককে ওয়ার্ডের ভিতরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের হাসপাতালগুলোর চূড়ান্ত অব্যবস্থা নিয়ে। রাজ্যে কোনও রোগী যাতে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে রাজ্য প্রশাসন। এমনকি করোনা রোগী ফেরালে হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা থেকে লাইন্সেস বাতিলের মত হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও হাসপাতালগুলির বেপরোয়া মনোভাবে ফের অকালে ঝরে গেল একটি তরতাজা প্রাণ! ঘটনায় এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
মৃতের মা জানান, ৪ ঘণ্টা বসে থাকলাম, হাতে-পায়ে ধরলাম, সুপারের ঘরে গেলাম, কেউ একটু জায়গা দিলো না, ওখানে একটু ফার্স্ট এইড পেলেও আমার ছেলেটা এইভাবে আজকে চলে যেত না।












Click it and Unblock the Notifications