জরুরি বৈঠকে স্কুল সার্ভিস কমিশন! ব্যাকডোর দিয়ে চাকরি দিতেই এই কেলেঙ্কারি, তোপ বিরোধীদের
কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা। আইনি জটিলতায় ভাগ্য ঝুলে রইল ১৪ হাজারেরও বেশি চাকরি প্রার্থীর। গত মাসে ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করে পর্ষদ। আর এরপরেই ভুরি ভুরি বেনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বেশ কয়েকজন
কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা। আইনি জটিলতায় ভাগ্য ঝুলে রইল ১৪ হাজারেরও বেশি চাকরি প্রার্থীর। গত মাসে ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করে পর্ষদ। আর এরপরেই ভুরি ভুরি বেনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। আজ বুধবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল।
সেই দীর্ঘ শুনানিতে আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি অভিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপার প্রাইমারিতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।

জরুরি বৈঠকে এসএসসি!
এই নির্দেশের পর ফের আটকে গেল নিয়োগ প্রক্রিয়া। জানা যাচ্ছে, হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরেই জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে স্কুল শিক্ষা কমিশনের তরফে। পরবর্তী ধাপ কি হবে তা নিয়েই মূলত আলোচনা করতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সমস্ত খোঁজখবর নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। জানা যাচ্ছে।, জরুরি বৈঠকে তিনিও থাকতে পারেন। স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যাবে নাকি পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে সে বিষয়ে আলোচনা হবে।

ত্রুটিহীন ব্যবস্থা করা হচ্ছে না কেন?
রাজ্য বারবার হাইকোর্টের উপর দোষ চাপায়! আইনি জটিলতায় নাকি সরকার নিয়োগ করতে পারছে না। কিন্তু সরকার কেন ত্রুটিহীন ব্যবস্থা করতে পারছে না। কলকাতা হাইপকোর্টের এহেন নির্দেশের পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। আর এই ভাষাতেই রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, সরকার ত্রুটিহীণ ব্যবস্থা করতে পারছে না বলেই বাংলার হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতি চাকরি পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তোপ সাংসদের।

তৃণমূল সরকারের সমস্ত নিয়োগের মধ্যেই রয়েছে দুর্নীতি
তৃণমূল সরকারের সমস্ত নিয়োগের মধ্যেই রয়েছে দুর্নীতি। আদালতের এই রায়ের পর এই বিষয়টি আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের। তিনি আরও বলেন, সরকার যতই বলুক না কেন মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে। কিন্তু তাতেও যে দুর্নীতি থাকবে তা তো আদালতের রায়ে পরিষ্কার। ফলে এই সরকার দুর্নীতিতে যুক্ত বলেও তোপ বিজেপি নেতার।

তোপ অশোকের
শুধু বাম কংগ্রেস নয়, আদালতের এই নির্দেশের পরে তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্ষীয়ান বামনেতা অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, 'ব্যাকডোর দিয়ে চাকরি দিতেই মেধাতালিকায় ভুল হচ্ছে। সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেই বারবার মামলা আর স্থগিতাদেশ।' অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া সচ্ছ হওয়া প্রয়োজন বলে তাঁর মন্তব্য। না হলে বারবার সরকারকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। শুধু তাই নয়, বাংলার হাজার হাজার বেকারের ভাগ্যও খুলবে না।

এক নজরে মামলা
একদিকে যখন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায় অন্যদিকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় একাধিক পরীক্ষার্থী। নিয়োগে বেনিয়মের অভিযোগ আবেদনকারীদের। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষাতে প্রাপ্ত নম্বর বেশি পাওয়ার পরেও তাঁদের মেধা তালিকাতে জায়গা হয়নি। কিন্তু তাদের থেকে অনেকের নম্বর কম রয়েছে কিন্তু মেঘা তালিকাতে জায়গা হয়ে গিয়েছে। আর এই বিষয়েই আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। এদিন আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে এই বিষয়ে আদালতের কাছে একগুচ্ছ অভিযোগ জমা দেওয়া পড়ে। শুধু তাই নয়, অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কিছু প্রমান্য নথিও তাঁরা জমা দেন। এই অবস্থায় দীর্ঘ শুনানি শেষে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications