শীতকে উপেক্ষা করে টুসু বিদায়! বাঁকুড়ার আনাচে কানাচে বেদনার সুর
জাঁকিয়ে ঠান্ডার কবলে রাজ্য। তার মধ্যে পশ্চিমের জেলাগুলিতে শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি। সোমবার বাঁকুড়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যখন সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছেছে ঠিক তখনই শীতকে উপেক্ষা করেই সকাল মকর স্নানে অংশ নিলেন বাঁকুড়ার মানুষ। সঙ্গে জেলার বিভিন্ন অংশে ঐতিহ্যবাহি টুসু বিসর্জন তো আছেই।
'আসছে বছর আস্য টুসু দিব পাটের শাড়ি গো...'এই কথা দিয়েই মকর সংক্রান্তির সকালে 'ঘরের মেয়ে' টুসুকে বিদায় জানাচ্ছেন বাঁকুড়া তথা রাঢ় বঙ্গের মানুষ। দীর্ঘ এক মাস প্রতি সন্ধ্যায় গানের মাধ্যমে টুসু আরাধনা শেষে মকর সংক্রান্তির আগের রাতে 'জাগরণ' শেষে এবার তাঁর বিদায়ের পালা। তাই মকর সংক্রান্তির দিন সকাল থেকে টুসু বিদায়ের বেদনা ভরা সুর বাঁকুড়ার আনাচে কানাচে।

সোমবার সকালে বাঁকুড়ার হরিয়ালগাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, ফুল আর মালায় সাজানো টুসুর চৌদল নিয়ে গান করতে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছেন মহিলারা। সকলের একটাই প্রার্থণা আবার এসো 'মা'। বৃদ্ধা বকুল বাগদী বলেন, এখন টুসু বিদায়ের সময় ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু, তার মধ্যেও, বিদায় দিতে হচ্ছে। বিদায়ক্ষণ উপস্থিত, তাই হাজারো কষ্টকে চাপা দিয়েও এখন বিসর্জন শেষে বাড়ি ফিরতে হবে বলে তিনি জানান।
লোকসংস্কৃতি গবেষক রবিলোচন ঘোষ বলেন, আজকের দিনটা সত্যিই কষ্টের। এক মাস ধরে 'ঘরের মেয়ে' টুসুকে নিয়ে আমাদের সময় কেটেছে। এখন বিদায়ের মুহূর্তে সকলের চোখেই জল বলে তিনি জানান।
টুসু হলেন লৌকিক দেবী। এই বাঁকুড়া ছাড়াও পুরুলিয়া ও প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ডের এই উৎসবের প্রচলন রয়েছে। অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিনে এর সূচনার পরে একমাস ধরে ব্রত রাখেন বাড়ির মহিলারা। এরপর মকর সংক্রান্তিতে বিসর্জন।












Click it and Unblock the Notifications