তদন্তের উপর কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, আপাতত স্বস্তি সৌমিত্র খাঁয়ের
কিছুটা স্বস্তি পেলেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খানের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। আপাতত সেই তদন্তের উপর স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরী এদিন এই নির্দেশ দিয়েছেন।
২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সৌমিত্র খাঁ। এখন তিনি বিজেপির সাংসদ। সাংসদের আইনজীবীর অভিযোগ, সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক বেআইনি মামলা দেওয়া হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে ২০২২ সালে নতুন করে এফআইআর করা হয়।

২০১৫ সালে নিরঞ্জন ঘোষ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সৌমিত্র খাঁ সাত লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পরে ২০১৭ সালে তিনি তার নিরাপত্তা রক্ষীর হাত দিয়ে দেড় লক্ষ টাকা ফেরতও দেন। যা পুরোটাই নগদে বিনিময় হয়েছিল বলে খবর। সাংসদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ করা হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কোতলপুর থানায় এই অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
রাজ্যের তরফে আইনজীবী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা লড়ছেন। তিনি আদালতের কাছে একদিন সময় চেয়েছেন। সাংসদের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে জানানোর জন্য এই সময় চাওয়া হয়েছে।
সব শুনে বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এদিন আপাতত মামলার তদন্তের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। আদালতে পুজার ছুটি শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর রেগুলার বেঞ্চে শুনানি করা হবে এই মামলার। এই কথাই এদিন জানানো হয়েছে।
বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে প্রচুর সম্পত্তি করার অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। এর আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মলনও করা হয়েছিল। বিজেপি সাংসদ পরিবারের আয়ের উৎস প্রকাশ্যে এনেছিলেন তারপর।
কিন্তু সেই ঘটনার পরেও বিতর্ক থামছে না। সাংসদের প্রাক্তন স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। সৌমিত্র খাঁ পরিবারের সদস্য ও অন্যান্যদের নামে সম্পত্তি করেছেন। জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি, গয়না ও অন্যান্য সম্পত্তি বানানো হয়েছে। এমনই অভিযোগ করেছেন সুজাতা।
বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদকে নিয়ে চর্চাও চলছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিকভাবে রীতিমতো চাপে থাকছেন সৌমিত্র। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই উঠে আসছে একের পর এক অভিযোগ। তার মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ। আপাতত খানিক স্বস্তি পেলেন বিজেপি সাংসদ। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।












Click it and Unblock the Notifications