পুরসভা নিয়ে উত্তপ্ত বর্ধমান, খুন তৃণমূল কর্মী! শাসক তৃণমূলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
পুরসভা নিয়ে উত্তপ্ত বর্ধমান, খুন তৃণমূল কর্মী! শাসক তৃণমূলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল! আর এর মাঝে পড়ে খুন হতে হল এক তৃণমূল কর্মীকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বর্ধমানে পুরপ্রশাসক বোর্ড গঠন হওয়ার পর থেকেই বর্ধমান শহরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে গণ্ডগোল এবং পরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার বিধায়ক অনুগামীদের সঙ্গে তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর এই ঘটনার জেরেই খুন বলে জানা যাচ্ছে। মৃত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম অশোক মাঝি বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনার পরেই বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। থমথমে গোটা এলাকা। তবে এই ঘটনার জন্যে বিধায়ক অনুগামীদের দিকেই আঙুল উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি, এলাকায় আতঙ্ক, সন্ত্রাস তৈরি করতেই বিধায়ক এই কাজ করাচ্ছেন। তবে এভাবে প্রকাশ্যে তৃণমূলের দূই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক আকার নিয়েছে। চরম অস্বস্তিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ঘটনাতে কার্যত স্পিকটি নট জেলা নেতৃত্ব। তবে বিষয়টির উপর রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর বলেন, পুরসভা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। হঠাত করে স্থানীয় কয়েকজন তাঁর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের নামে পার্টি অফিস খুলে সমাজবিরোধী কাজকর্ম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ, এমনকি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হলেও ফের তা খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর তা স্থানীয় বিধায়কের নেতৃত্বে আবার খোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। আর সেখান থেকে এই হামলা হয়েছে বলেও মারাত্মক অভিযোগ ওই তৃণমূল নেতার। শুধু তাই নয়, মৃত অশোক মাঝি এবং তাঁর স্ত্রীকে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওই তৃণমূল নেতারা। এই ঘটনার পর কার্যত অগ্নিগর্ভ বর্ধমান।

জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন আগে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে ব্যাপক রদবদল করে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই মতো পুরসভাতেও ব্যাপক রদবদল হয়। নতুন পুরপ্রশাসক বোর্ড গঠন। আর পুরপ্রশাসক হিসাবে আনা হয় প্রণব চট্টোপাধ্যায়কে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা প্রণববাবুর উপরে ভরসা রাখে দল। প্রশাসকমন্ডলীতে বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে নিয়ে আসা হয়। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল আইনুল হোক। বাম নেতা হলেও পরবর্তীকালে তৃণমূলে যোগ দেন। আর এরপরেই তৃণমূলের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। কখনও পথ অবরোধ আবার কখনও পুরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা সবাই বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের অনুগামী বলে পরিচিত। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আইনুল হোককে সরাতে হবে। যদিও পাল্টা আইনুল হোককে রাখার ব্যাপারে সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূলের উপর গোষ্ঠী। এমনকি বিক্ষোভকারীদের পাল্টা ওই নেতার সমর্থনে মিটিং, মিছিলও করছে। কার্যত প্রকাশ্যে চলে আসে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সমস্যা।

যদিও এই প্রসঙ্গে আইনুল হোক জানিয়েছেন, আমি তৃণমূলের সৈনিক। খোদ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে দলে নিয়েছেন। এরপর তিনি দায়িত্ন দিয়েছেন। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি তবে এই বিষয়ে তাঁর আর কিছু বলার নেই বলেও জানিয়েছেন প্রাক্তন এই বামনেতা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছেন আদৌও তাঁরা তৃণমূল কর্মী কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই নেতা। তবে বিধায়ক জানিয়েছেন, এটা আন্দোলন নয়, কর্মীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বাম জমানাতে আইনুল হোকের দারা ব্যাপক অত্যাচারিত হয়েছিলেন কর্মীা। আর সেই কারণে এই ক্ষোভ। শুধু তাই নয় বিধায়কের দাবি, নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়ে সম্ভবত তৃণমূল নেতৃত্ব জানেনা বলেই দাবি বিধায়ক খোকন দাসের।













Click it and Unblock the Notifications