দলের কর্মী খুনে অভিযুক্ত বসে খোদ তৃণমূলের বিধায়কের সঙ্গে! কিন্তু খোঁজ পেতে কালঘাম ছুটছে পুলিশের
পুলিশের খাতাতে ফেরার কিন্তু তাতে কি! একেবারে বহাল তবিয়তে ঘুরতে দেখা গেল খোদ দলেরই কর্মীকে খুনের ঘটনাতে অভিযুক্তকে। তাও আবার কিনা দলের বিধায়কদের সঙ্গে। আর এই দৃশ্য দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে খোদ দলীয় কর্মীকে খুন
পুলিশের খাতাতে ফেরার কিন্তু তাতে কি! একেবারে বহাল তবিয়তে ঘুরতে দেখা গেল খোদ দলেরই কর্মীকে খুনের ঘটনাতে অভিযুক্তকে। তাও আবার কিনা দলের বিধায়কদের সঙ্গে। আর এই দৃশ্য দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে খোদ দলীয় কর্মীকে খুনের ঘটনাতে নাম থাকা স্বত্বেও যদিও এভাবে ঘুরে বেড়াতে পারেন তাহলে কীসের আইনশৃঙ্খলা!

এমনকি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন খোদ শাসকদলের নেতারা। বিধায়ক ঘনিষ্ঠ হওয়াতেই কি নেতার গায়ে হাত দিতে ভয়? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের অন্দরে।
গত কয়েকদিন আগে খুন হতে হয় তৃণমূল কর্মী অশোক মাঝিকে। বর্ধমান শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দলের গোষ্ঠী কোন্দলে খুন হতে তাঁকে। আর এই ঘটনাতে দলের বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এমনকি খোদ বিধায়ক খোকন দাস অনুগামীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার পরেই স্থানীয় একাধিক তৃণমূল নেতার নামে এফআইআর দায়ের করা হয়। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক শিবশংকর ঘোষ সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। কিন্তু এফআইআরে নাম থাকা স্বত্বেও গ্রেফতার করা হয়নি সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রবকে। বরং পুলিশের খাতায় ইনি নাকি ফেরার। তাঁর খোঁজ পেতে রীতিমত কালঘাম ছুটছে পুলিশের।
আর সেই নেতাকেই তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানে বুক ফুলিয়ে ঘুররে দেখা গেল। শুধু তাই নয়, দলের পতাকা উত্তোলন করলেন এবং ভাষণ পর্যন্ত দিলেন। এখানেই শেষ নয়, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি রক্তদান শিবিরেও তাঁকে দেখা গেল। তাও আবার কিনা খোদ বিধায়ক খোকন দাসের পাশে বসে থাকতে দেখা গেল খুনে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীকে।
কিন্তু তাঁর খোঁজ পেল না পুলিশ। আর তাই দেখে অনেকেই বলছেন সত্যি সেলিকাশ কি বিচিত্র দেশ!!!! তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা কল্লোল নন্দন জানিয়েছেন, তৃণমূল এভাবে কুলষিত হবে। নিজেদের দলের লোক খুন হচ্ছেন আর পুলিশ প্রশাসনের সাহস নেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার।
এতে দলই কলুষিত হচ্ছে বলে দাবি ওই বিজেপি নেতার। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, এটা দলের কোন অভিযোগ ছিল না। নিহতের পরিবার এই অভিযোগ করেছে। তবে পুলিশ পুলিশের মতো তদন্ত করছে বলে দাবি তাঁর।
শুধু তাই নয়, পুলিশ যেভাবে মনে করবে তদন্ত সেভাবেই চলবে। আইন আইনের পথেই চলবে বলে দাবি প্রসেনজিৎ দাসের। তবে যেখানে খোদ তৃণমূল নেত্রী কর্মীদেরকেই নিজেদের দলের সম্পদ বলে বারবার দাবি করেন সেখানে এক কর্মী খুন হয়ে যাচ্ছে আর প্রশাসনের এহেন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জেলা জুড়ে।
প্রসঙ্গত তৃণমূলকর্মী অশোক মাঝি খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা শিবশংকর ঘোষ। শিবশংকর ঘোষ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও বিধায়ক খোকন দাসের অনুগামী বলে পরিচিত।বুধবার রাতে স্পেশাল অপারেশন টিম শক্তিগড় থেকে শিবশংকরকে গ্রেফতার করে।
অশোক মাঝির স্ত্রী ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সৈয়দ মহম্মদ সেলিমের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ পত্রে শিবশংকর ঘোষ, অন্য আর এক প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব ও প্রাক্তন আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি ইফতিকার আহমেদকে মূল অভিযুক্ত বলা হয়।
শিবশংকর ঘোষকে গ্রেফতার করলেও বাকিরা এখনও অধরা। বর্ধমান জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন জানিয়েছেন পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। তবে এফআইআরে নাম থাকলেই যে গ্রেফতার করা হবে তা ঠিক নয় বলে দাবি পুলিশ কর্তার। তাঁর মতে, নাম না থাকলেও কেউ গ্রেফতার হতে পারেন। আর এখানেই প্রশ্ন যে অভিযোগের ভিত্তিতে এক নেতাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে সেই অভিযোগেতে থাকা আরেকজনকে কেন গ্রেফতার করা হবে না?












Click it and Unblock the Notifications