রাতের অন্ধকারে গ্রামের রাস্তায় গরু পাচার রুখে দিল এলাকাবাসী, বেগতিক বুঝে ‘দে ছুট’
দুটি গরু বোঝাই ট্রাক ঝুকে পড়েছিল অচেনা রুটে। স্থানীয়রা মানুষেরা তা বুঝেই জোট বেঁধে নেমে পড়লেন ট্রাক আটকাতে। সাহসীকতার পরিচয় দিয়ে গরু পাচার রুখে দিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এই অবস্থায় বেগতিক বুঝে কোনোরকমে নিজেদের বাঁচিয়ে ছুটে পালাল দুই ট্রাকের চালক।
এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের নামো সাগর ভাঙা এলাকায়। প্রশাসনের সাহা্য ছাড়া গরু চুরি রুখে দিয়ে হিরো স্থানীয় বাসিন্দারাই। সোমবার দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার অন্তর্গত নামো সাগরভাঙ্গা গ্রামের মানুষরা একজোট হয়ে গরু পাচার রুখে দিলেন।

এদিন সন্দেহবশত দুটি গরু বোঝাই লরি আটকায় এলাকাবাসী। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে দুটি গাড়ির চালকই পালিয়ে যায়। মানুষের ক্ষোভ আঁচ করে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কোকওভেন থানার পুলিশ। গাড়ি দুটিকে নিয়ে যেতে পুলিশকে প্রথমে বাধা দেন তাঁরা। পরে পুলিশ বুঝিয়ে-সুঝিয়ে গরুবোঝাই লরিগুলিকে থানায় নিয়ে যায়।
কিন্তু অচেনা এই রুটে কীভাবে ঢুকে পড়লো গরুর গাড়ি? মূলত মূল রাস্তা ধরেই গাড়িগুলি যাওয়ার কথা। সেটা না করে কেন গ্রামের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। আসলে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই গরুগুলিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
তাহলে কি পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য ঘুরপথে সন্দেহ এড়াতে বীরভূম, মালদহ-সহ অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই গরুর ট্রাক? না কি এটা নতুন কোনো রুট ম্যাপ গরু পাচারকারীদের? প্রশ্ন বিরোধীদের। বিরোধীদের পাল্টা দিয়ে শাসক দল জানায়, এমন কোনো ঘটনা নয়, মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।
গ্রামের মানুষ আবার বলছেন বেশ কয়েক মাস ধরে গরু চুরি হচ্ছিল নামো সাগরভাঙ্গা ভৈরবপুর গ্রাম থেকে। কোকওভেন থানার পুলিশকেও অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি কিছু। এমনও অভিযোগ উঠছে, রাতের অন্ধকারে নাকি এই নামোসাগরভাঙা ভৈরবপুর গ্রামের রাস্তা ধরে গাড়ি চলাচল করে।

গাড়ির আওয়াজ মাঝরাতে মিলত, কিন্তু এই ধরনের গাড়ি যে রুট বদলে গ্রামের রাস্তা ধরে বেরোতে পারে, এমনটা ভাবতে পারেনি কেউ। আজ হাতেনাতে গ্রামবাসীরা দুটি গরুর গাড়িকে শুধু ধরে ফেলেনি বৈধ কাগজপপত্র দেখতে চাওয়া মাত্রই গাড়ি দুটির চালক পালিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীদের সন্দেহ আরও তীব্র হচ্ছে।
গোটা ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কোকওভেন থানার অন্তর্গত নামো সাগরভাঙা এলাকায়। পুলিশ এসে কোনোক্রমে সামাল দেয় পরিস্থিতির। পুলিশ এই বিষয়ে সতর্ক হবেন বলে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে কতা দিয়ে গিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications