'ভোটের সময় চা বাগানে উপর নজর পড়েছে অনেকের', উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপিকে তোপ মমতার
'ভোটের সময় চা বাগানে উপর নজর পড়েছে অনেকের', উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপিকে তোপ মমতার
ফালাকাটাঃ এতগুলো বিধায়ক নিয়ে উত্তরবঙ্গের জন্যে কি করেছে বিজেপি? ভোটের সময় চা বাগানে উপর নজর পড়েছে অনেকের। কিন্তু ওরা শুধু বলে, কিন্তু তৃণমূল যা বলে তাই করে। উত্তরবঙ্গ সফরে আজ মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। মিল রোড ময়দানে পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেই মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "চা বাগান নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু বলেন কিন্তু কিছু করেন না।" ভোটের আগে বিজেপি নেতারা বলছেন, 'চা বাগান সব খুল দেগা'। ভোট মিটলেই সব পাগাড় পাড়। এখানেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন যে, এখনও পর্যন্ত কতগুলি চা বাগান খুলেছে ওরা! উত্তর ভেসে আসে দুট...এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সাতটা খুলে দিয়েছি। আগামিদিনে সবগুলি চা বাগান খুলে দেওয়া হবে।

৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে চা সুন্দরী প্রকল্পে, ফালাকাটায় বললেন মমতা
ফালাকাটা সরকারি অনুষ্ঠান থেকে চা-সুন্দরী প্রকল্পে উত্তরবঙ্গের ১২টি চা বাগানের ৪ হাজার ৬০০ জন শ্রমিকের হাতে বাড়ি বন্টন সংক্রান্ত নথি তুলে দেন তিনি। বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাজেটে এর ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ আমরা সেই নথি চা শ্রমিকদের হাতে তুলে দিলাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে চা সুন্দরী প্রকল্পে। ৩ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পে গৃহহীনরা পাবেন ঘর। উল্লেখ্য, গতবারের বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। যদিও তার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে এই সংক্রান্ত প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্প অনুযায়ী শুধুমাত্র চা বাগানের শ্রমিক, যাঁদের নিজস্ব বাড়ি নেই, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার এলাকার মধ্যে তৈরি করে দেবে বাড়ি। বাংলার বাড়ি, বাংলা আবাস যোজনা রাজ্যের নিম্নবিত্ত, বিপিএল তালিকাভুক্ত মানুষজনকে সহজ উপায়ে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পগুলিতে রাজ্য সরকার নিজেই বাড়ি তৈরি করে এঁদের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দিয়েছে। সেদিকে নজর রেখেই চা বাগানের শ্রমিকদেরও সেই সুযোগ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ভোটের আগে উন্নয়নের খতিয়ান
ভোটের আগে ফের একবার তাঁর সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্যে কি কাজ হয়েছে তা সরকারি মঞ্চ থেকে সাধারনের উদ্দেশ্যে জানান তিনি। বলেন, রাজবংশী-কামতাপুরী ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। কথা মতো ফালাকাটা-ময়নাগুড়িতে নতুন পুরসভা তৈরির কথাও এদিন মঞ্চ থেকে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার বিষয়টিও এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কথা মতো আপনার আগামীদিনে রেশন পাবেন। আর তা দেওয়া হবে একেবারে বিনামূল্যে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ফের একবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী, তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসাথীর বায়োমেট্রিক্স কার্ড না পেলে একটা বিকল্প কার্ড দেওয়া হবে। ওই কার্ডেও আপনারা সব সুবিধা পাবেন। কৃষক-শ্রমিকবিরোধী কোনও কাজ তৃণমূল সরকার করবে না বলেও এদিন পরিষ্কার করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'আমি মনে করি, আমাদের সরকার মানুষের সরকার, কৃষকদের সরকার, আদিবাসী খেটেখাওয়া মানুষের সরকার। তবে সামাজিক অনুষ্ঠান হওয়াতে এদিন বেশি ভাষণ দীর্ঘায়িত করেননি মুখ্যমন্ত্রী।

হালকা মেজাজে আদিবাসীদের সঙ্গে নাচের তালে পা মেলান মুখ্যমন্ত্রী
এদিন চা সুন্দরী প্রকল্পের সূচনার পাশাপাশি ৯০০ আদিবাসী তরুণীর গণবিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। শুধু তাই নয়, নব্য বিবাহিতদের হাতে উপহার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সবথেকে বড় বিষয় , আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গেই এদিন নাচের তালে কোমর দোলান মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এই ছবি আগে মালদার গণবিবাহতেও দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিকমহলের মতে, সামনেই বিধানসভা ভোট। আর ভোটের আগে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গেই তিনি যে আছেন কার্যত তা বোঝাতেই মুখ্যমন্ত্রীর এহেন উদ্যোগ বলে মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।












Click it and Unblock the Notifications