উত্তরে ঝোড়ো ব্যাটিং বিজেপির! পরাজয় মানলেন মমতার প্রভাবশালী তিন প্রাক্তন মন্ত্রী
৩৬ দিনের নির্বাচনী লড়াই শেষে বাংলার রং রইল সবুজই। প্রতিষ্ঠিত হল-‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়' স্লোগান। উচ্ছ্বসিত মমতা বলেছেন, ‘আমার মতো খুশি, সুখী আজ কেউ নেই! ওরা (বিজেপি) বলেছিল ডবল ইঞ্জিনের সরকার, আর আমি বলেছিলাম ডবল সেঞ্
৩৬ দিনের নির্বাচনী লড়াই শেষে বাংলার রং রইল সবুজই। প্রতিষ্ঠিত হল-'বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়' স্লোগান। উচ্ছ্বসিত মমতা বলেছেন, 'আমার মতো খুশি, সুখী আজ কেউ নেই! ওরা (বিজেপি) বলেছিল ডবল ইঞ্জিনের সরকার, আর আমি বলেছিলাম ডবল সেঞ্চুরির সরকার!
আর সেই কারনেই এই জয়কে বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিপুল ভোটে তৃণমূল জিতলেও একের পর এক নক্ষত্রপতন হয়েছে এবারের ভোটে। হেভিওয়েট একাধিক নেতা হেরে গিয়েছেন।

পরাজিত হলেন পাঁচ হেভিওয়েট প্রার্থী
দক্ষিণবঙ্গের থেকে উত্তরবঙ্গে বিজেপি ভালো ফল করেছে। কার্যত উত্তরে বিজেপি ঝড়ে কুপোকাত তৃণমূল। উত্তরবঙ্গের চার জেলায় পরাজিত হলেন পাঁচ হেভিওয়েট প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে তিন বিদায়ী মন্ত্রী অন্যতম। তাঁরা হলেন গৌতম দেব, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। শাসকদলের না হলেও তালিকায় বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য এবং কংগ্রেস নেতা শঙ্কর মালাকারও। শিলিগুড়িতে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের কাছে হেরে তৃতীয় স্থানে চলে গিয়েছেন শহরের প্রাক্তন মেয়র। ২০১১ সালে পবির্তনের ঝড়ে তিনি রাজনীতিতে আনকোরা তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্যর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। মাঝের একটি বিধানসভা নির্বাচন বাদ দিয়ে ফের তাঁর পরাজয়। এখানে লোকসভা ভোটের ট্রেন্ড বজায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা। তবে অশোকবাবু জানিয়েছেন, শুধু তিনি নন, সার্বিক ভাবে বাংলায় কেন এমন ফল তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

মন্ত্রীদের পরাজয়, উত্তরে শাসকের ধাক্কা
কোচবিহার জেলা। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর এই জেলা থেকে দু'জনকে মন্ত্রী করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী হয়েছিলেন। এবার তিনি প্রাক্তন সহকর্মী তথা দলবদলু বিজেপি প্রার্থী মিহির গোস্বামীর কাছে হেরেছেন। অন্যদিকে, পরাজিত হয়েছেন আরএক মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনও। গতবার তিনি মাথাভাঙা বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। এবার কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হয়। এই জেলার দিনহাটা কেন্দ্রের গণনায় শেষ রাউন্ড পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা ছিল। কোনও রাউন্ডে তৃণমূল, আবার কোনও রাউন্ডে বিজেপি এগিয়ে যায়। শেষমেষ তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহকে মাত্র ৫৭ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির এমপি নিশীথ প্রামাণিক। জেলার ন'টি আসনের মধ্যে তৃণমূল দু'টিতে এবং সাতটিতে জিতেছে বিজেপি। তবে মেখলিগঞ্জ থেকে জিতেছেন তৃণমূল প্রার্থী পরেশ অধিকারী।

প্রাক্তন সহকর্মীর কাছেই হারতে হল গৌতম দেবকে
জলপাইগুড়ি জেলাতেও ইন্দ্রপতন ঘটেছে। এই জেলার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা থেকে পর পর দু'বার জিতে মন্ত্রী হয়েছিলেন গৌতম দেব। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর, পর্যটন দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার প্রাক্তন সহকর্মী তথা বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হয়েছেন। ফল ঘোষণার পর 'হতাশ' হয়ে বাড়িতে বসেছিলেন। কারও ফোনও ধরেননি। তবে এই জেলায় সাতটি আসনের মধ্যে তৃণমূল তিনটিতে জিতেছে। যারমধ্যে রাজগঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী খগেশ্বর রায় এবার নিয়ে চারবার জিতলেন। মাল বিধানসভায় জিতেছেন তৃণমূলের বুলু চিকবরাইক। প্রথমবার ভোটে লড়তে নেমেই কিস্তিমাত করেছেন জলপাইগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ প্রদীপকুমার বর্মা।

আলিপুরদুয়ারে বিজেপির জয়জয়কার
তৃণমূলের অন্যতম শক্তঘাঁটি আলিপুরদুয়ার। গত নির্বাচনে এই জেলায় পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিই ছিল তৃণমূলের কব্জায়। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে এই জেলাতে কাজত বিজেপি ঝড় বয়ে যায়। সেই ট্রেন্ড ধরা থাকল বিধানসভা নির্বাচনেও। সবকটিতেই পদ্ম ফুটেছে।

উত্তরবঙ্গ নিয়ে চিন্তায় ছিল তৃণমূলও
উত্তরবঙ্গে দলের ভালো ফল হবে না। কিন্তু সবরকম চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি বারবার উত্তরবঙ্গে ছুটে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বলেছেন উত্তরবঙ্গের নেতৃত্বের সঙ্গে। কিন্তু এরপরেও বিজেপির জয়জয়কার উত্তরে। রাজনৈতিকমহলের মত, উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বড় কাঁটা হয়েছে শাসকদলের কাছে। একাধিকবার গৌতম দেবের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কোন্দল সামনে এসেছে। আর এই কোন্দলই চাপ বাড়িয়েছে তৃণমূলের। যা বিজেপিকে জেতার জন্যে অনেকটাই সুবিধা করে দিয়েছে।

বিজেপির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে কুপোকাত দুবারের বিধায়কও
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন দু'বারের বিধায়ক, হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতা শঙ্কর মালাকার। ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্র থেকেও মুছে গিয়েছে কংগ্রেস। সংশ্লিষ্ট তিনটি কেন্দ্র বিজেপির কব্জায় গেলেও সবক'টিতে তৃণমূলের স্থান দ্বিতীয়। অন্যদিকে পাহাড়ে জিএনএলএফের সমর্থনে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং কেন্দ্র দু'টি দখল করেছে বিজেপি। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দুই গোষ্ঠীর ভোট কাটাকুটিতে এমনটা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। পাশের জেলা কালিম্পংয়ের কালিম্পং কেন্দ্র কব্জা করেছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিনয় তামাং শিবির।












Click it and Unblock the Notifications