অবস্থা ভাল নয়, দার্জিলিং থেকে অবিলম্বে পর্যটকদের ফিরে আসার নির্দেশিকা জারি, শয়ে শয়ে বুকিং বাতিল পাহাড়ে
আকাশ ভাঙা বৃষ্টি হচ্ছে পাহাড়ে। ফুঁসে উঠেছে তিস্তা। গর্জন শোনা যাচ্ছে রীতিমতো। সিকিমে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আগামী ২ দিন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের জেলাগুলিতে ভারি বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি একেবারেই অনুকূল নয়। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে দার্জিলিং এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জায়গা গুলি থেকে পর্যটকদের নেমে আসার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন পর্যটকদে পাহাড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞ জারি করা হয়েছে।

মৌসুমী বায়ু অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় যখন দহনের তীব্রতায় জেরবার দশা তখন উত্তরবঙ্গ ভাসছে বৃষ্টিতে। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের সব পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তার জেরে তিস্তার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। একাধিক জায়গায় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। অনেক রাস্তার অবস্থাই এখন ভাল নয়। এই পরিস্থিতিতে এখন পর্যটকদের পাহাড়ে না থাকাই নিরাপদ পদে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।
যাঁরা এখনও পাহাড়ে রয়েছেন সেই পর্যটকদের অবিলম্বে সমতলে ফিরে আসার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সিকিমে প্রায় ২০০ পর্যটক আটকে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে উত্তর সিকিমে অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। সিংথাম যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে ধসে। ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এখনও পর্যন্ত। সেনা বাহিনী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পাহাড়ের পরিস্থিতি খারপ হতেই শয়ে শয়ে বুকিং বাতিল হতে শুরু করেছে। দার্জিলিং সহ পাহাড়ের একাধিক হোমস্টের বুকিং বাতিল হচ্ছে হু হু করে। অন্যদিকে সিকিমেরও বুকিং বাতিল হয়েছে একাধিক জায়গায়। পর্যটকরাও পাহাড়ের এই পরিস্থিতিতে সেখানে যেতে চাইছেন না। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে পর্যটব ব্যবসায়ীদের। এবার গরমে পাহাড়ে রেকর্ড ভিড় হয়েছিল। ভোট উপেক্ষা করেই পর্যটকরা ছুটে গিয়েছিলেন পাহাড়ে। দার্জিলিংয়ের ম্যাল গম গম করছিল পর্যটক সমাগমে।
এবার আগেই বর্ষা ঢুকেছে দেশে। উত্তরবঙ্গেও নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্ষা প্রবেশ করেছে। মৌসুমী বায়ু সেখানে অতি সক্রিয় হয়ে রয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গ সহ উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে অতিবর্ষণ শুরু হয়েছে। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে সিকিমের সিংথামের কাছে হ্রদ ফেটে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে এসেছিল। ভেসে গিয়েছিল শয়ে শয়ে ঘরবাড়ি। পুজোর মুখে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।












Click it and Unblock the Notifications