Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

তিন দশক পর রাজীব গান্ধীর নাম মুছে খেলরত্ন নামাঙ্কিত হকির জাদুকরে, ধ্যানচাঁদকে শ্রদ্ধা মোদীর

রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কারকে এবার থেকে বলা হবে মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরস্কার, আজ এই ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, দেশের বহু মানুষের কাছ থেকে তিনি অনুরোধ পাচ্ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান হকির জাদুকরের নামাঙ্কিত করার জন্য। সেই মতামত দেওয়ার জন্য দেশের নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে নরেন্দ্র মোদী আজ ঘোষণা করে বলেন, দেশবাসীর আবেগকে সম্মান দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। উল্লেখ্য, ১৯৯১-৯২-এ প্রথমবার দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান রাজীব গান্ধী খেলরত্নে ভূষিত হন বিশ্বনাথন আনন্দ।

প্রধানমন্ত্রীর মাস্টারস্ট্রোক

এবারের অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছে ভারতীয় পুরুষ হকি দল। অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হলেও সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে ভারতের মহিলা হকি দল। এদিন সকালে অলিম্পিকে ভারতীয় হকির স্মরণীয় পারফরম্যান্সকে কুর্নিশ জানিয়ে সকালে টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে হকিকে নিয়ে ফের যে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে তাকেও ইতিবাচক বলেই অভিহিত করেন প্রধামন্ত্রী। এর কিছু পরেই দেশের সর্বোচ্চ ক্রী়ড়া সম্মানকে ধ্যানচাঁদের নামাঙ্কিত করে আরও এক মাস্টারস্ট্রোক দেন প্রধানমন্ত্রী। হিন্দি ও ইংরেজিতে টুইট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অলিম্পিকে আমাদের দেশের ছেলে ও মেয়েরা হকিতে যে ইচ্ছাশক্তি দেখিয়ে জয়ের জন্য অসাধারণ লড়াই চালিয়েছেন তা বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের হকি খেলোয়াড়দের প্রেরণা দেবে। দেশের এই গর্বের মুহূর্তে অনেকেই অনুরোধ করছিলেন, খেলরত্ন পুরস্কার মেজর ধ্যানচাঁদের প্রতি সমর্পিত করার জন্য। তাঁদের এই ভাবনা ও আবেগকে মর্যাদা দিতেই দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান যে হকির জাদুকরের নামাঙ্কিত করা হল তা বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, রাজীব গান্ধীর নামাঙ্কিত পুরস্কারকে ধ্যানচাঁদের নামে করে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিলেন তার বিরোধিতা করার রাস্তাও খুঁজে পাবে না বিরোধী দলগুলি।

কবে থেকে খেলরত্ন

কবে থেকে খেলরত্ন

রাজীব গান্ধী খেলরত্ন দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান। যা দেওয়া হচ্ছে ১৯৯১-৯২ সাল থেকে। কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রকের তরফে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট বছরে বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রের সংস্থাগুলি অর্জুন, দ্রোণাচার্য, রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে ক্রীড়াবিদদের নাম সুপারিশ করে। খেলরত্নের জন্য দেখা হয় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে বিগত চার বছর ধরে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদের পারফরম্যান্স। তার ভিত্তিতেই গত বছর খেলরত্ন পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে একটি মেডেল, একটি সার্টিফিকেট ও ২৫ লক্ষ টাকা। এ বছর জাতীয় ক্রীড়া দিবসে কে কোন পুরস্কার পাবেন তা অলিম্পিক শেষের পর ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

কীভাবে বাছাই

কীভাবে বাছাই

১৯৯১-৯২ সালের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেশের প্রথম খেলরত্ন হয়েছিলেন বিশ্বনাথন আনন্দ। তবে ২০১৪ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদানের মাপকাঠি নির্ধারণে কিছু রদবদল করে কেন্দ্র। পুরস্কার প্রাপক বাছাইয়ে স্বচ্ছতা আনতে গড়া হয় বিশেষ কমিটি। ২০১৫ সাল থেকে ঠিক করা হয় চার বছর ধরে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদের পারফরম্য়ান্স তুল্যমূল্য যাচাই করেই প্রতি বছর খেলরত্ন প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হবে। ১২ সদস্যের কমিটি ক্রিকেটের পাশাপাশি অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স যাচাই করে নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রকের কাছে। তারপরই প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হয়। ক্রিকেটের জন্য নাম পাঠায় বিসিসিআই। ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, সাই, স্পোর্টস প্রোমোশন ও কন্ট্রোল বোর্ড, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রতিটি ক্রীড়াক্ষেত্রে সর্বাধিক দুজনের নাম পাঠানো যায়। তারপর তা পাঠানো হয় সাই ও ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির কাছে। কারও নাম ডোপ কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকলে তিনি এই পুরস্কার পান না। সব কিছু যাচাইয়ের পর কেন্দ্রের কাছে নাম সুপারিশ হয় কমিটির তরফে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ জয়ের জন্য আলাদা আলাদা পয়েন্টও রয়েছে ক্রীড়াবিদদের নাম চূড়ান্ত করার জন্য।

মোদী জমানার আগে

মোদী জমানার আগে

বিশ্বনাথন আনন্দের পর থেকে যাঁরা খেলরত্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তাঁরা হলেন গীত শেঠি (১৯৯২-৯৩), হোমি মোতিভালা ও পুষ্পেন্দ্র কুমার গর্গ (১৯৯৩-১৯৯৪), কর্নম মালেশ্বরী (১৯৯৪-৯৫), নামেইরাকপাম কুঞ্জরানি (১৯৯৫-৯৬), লিয়েন্ডার পেজ (১৯৯৬-৯৭), সচিন তেন্ডুলকর (১৯৯৭-৯৮), জ্যোতির্ময়ী শিকদার (১৯৯৮-৯৯), ধনরাজ পিল্লাই (১৯৯৯-২০০০), পুল্লেলা গোপীচাঁদ (২০০০-০১), অভিনব বিন্দ্রা (২০০১), কে এম বীণামল ও অঞ্জলি ভাগবত (২০০২), অঞ্জু ববি জর্জ (২০০৩), রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর (২০০৪), পঙ্কজ আদবানি (২০০৫), মানবজিৎ সিং সান্ধু (২০০৬), মহেন্দ্র সিং ধোনি (২০০৭), ২০০৮ সালে কাউকে দেওয়া হয়নি, মেরি কম, বিজেন্দ্র সিং ও সুশীল কুমার (২০০৯), সাইনা নেহওয়াল (২০১০), গগন গারাং (২০১১), বিজয় কুমার ও যোগেশ্বর দত্ (২০১২), রঞ্জন সোধি (২০১৩)

নিয়ম বদলের পর নাম বদল

নিয়ম বদলের পর নাম বদল

নরেন্দ্র সিং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বছর ২০১৪ সালে কাউকে খেলরত্ন প্রদান করা হয়নি। নতুন পদ্ধতি চূড়ান্ত করার পর ২০১৫ সালে খেলরত্নে ভূষিত হন সানিয়া মির্জা, ২০১৬ সালে পিভি সিন্ধু, জিতু রাই, সাক্ষী মালিক ও দীপা কর্মকার, ২০১৭ সালে দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া ও সর্দারা সিং, ২০১৮ সালে বিরাট কোহলি ও মীরাবাঈ চানু খেলরত্ন পান। ২০১৯ সালে খেলরত্ন পুরস্কার পেয়েছেন দীপা মালিক ও বজরং পুনিয়া। গত বছর সবচেয়ে বেশি ৫ জন পেয়েছেন খেলরত্ন। তাঁরা হলেন রোহিত শর্মা, মারিয়াপ্পান থাঙ্গাভেলু, মনিকা বাত্রা, ভিনেশ ফোগাট ও রানি রামপাল। এবার থেকে আর রাজীব গান্ধী খেলরত্ন নয়, ক্রীড়াবিদরা দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরস্কারের ভূষিত হবেন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+