সামান্য রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে থেকে বিজেপি বিধায়ক, চন্দনা ভোলেননি অগ্রজদের সম্মান জানাতে
সামান্য রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে থেকে বিজেপি বিধায়ক, চন্দনা ভোলেননি অগ্রজদের সম্মান জানাতে
মাথায় একটা গামছার বেড়ি, তার উপর বসানো একটা লোহার গামলা। সেই গামলাতে করেই কখনও সিমেন্ট, কখনও বালি, কখনও ইঁট নিয়ে এক হাতে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসতে পারেন চন্দনা বাউরী। এতদিন রাজমিস্ত্রি স্বামীর সঙ্গে সহকারী হিসেবে এই ইঁট বওয়ার কাজ করেই জীবনের লড়াইটা লড়ছেন চন্দনা বাউরি৷ বাঁকুড়ার শালতোড়া থেকে একুশের ভোটে প্রার্থী করে বিজেপি৷ ভোটে জিতে কলকাতা এসে মানুষের জন্য কাজ করার শপথ নেন চন্দনা। ফিরে গিয়ে দলে নিজের অগ্রজদের সম্মান জানাতে ভোলেননি তিনি৷

রাজনীতিতে পিছুটান ফেলে এগিয়ে যাওয়াই যেখানে দস্তুর সেখানে চন্দনা একেবারেই আলাদা। সম্প্রতি নিজের টুইটারে কিছু ছবি পোস্ট করে চন্দনা লিখেছেন, '১৯৯১ সালে বিজেপির হয়ে বিধায়ক নির্বাচন লড়েছিলেন কর্ণ বাউরি। নির্বাচনে হেরে যান তিনি। শালতোড়া বিধানসভার গঙ্গাজলঘাটি থানার বনআশুড়িয়ার বিশিন্ডা গ্রামের বাসিন্দা কর্ণ৷ আজ উনি মানসিক ভারসাম্যহীন। আমি ওঁকে সম্মান জানিয়ে প্রণাম করে এলাম৷' মোদী-শাহের জমানায় বিজেপির পুরনো বরিষ্ঠ নেতাদের যেখানে অপাঙ্গতেয় করার অভিযোগ ওঠে সেখানে চন্দনা বাউরি অবশ্যই দৃষ্টান্ত৷ কিছুটা হলেও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের উত্তর বলা যায়।
চন্দনার স্বামী শ্রবণ বাউরি পেশায় রাজমিস্ত্রি৷ কাজ থাকলে দিনে ৩৫০ টাকা রোজগার করেন। এরকম কষ্টের সঙ্গে লড়াই করেই রাজ্যের বিধানসভাতে পা রেখেছেন চন্দনা৷ কোভিডের সময় দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সামর্থ্য মতো৷ মাস্ক, সাবনা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন আশেপাশের গ্রামে৷ সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকে চন্দনার জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বিজেপি সমর্থকদের মধ্য। চনন্দনার সাম্প্রতিক টুইটটি শেযার করে এক বিজেপি সমর্থক লিখেছেন, 'এঁকে দেখে শেখা উচিৎ দলের অন্য নেতাদের। দলের পুরনো নেতাদের কিভাবে সম্মান দিতে হয়৷ কিভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়।
টুইটারেও চনন্দনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে অনেকেই৷ অন্য দল না ভাঙিয়ে চন্দনার মতো মাটি থেকে উঠে আসা নেতাদের সামনের সারিতে রাখার দাবী জানিয়েছেন অনেকে।












Click it and Unblock the Notifications