পূর্ণিমার ভরা কোটালেই আছড়ে পড়বে ইয়াস! যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি হচ্ছে সেফ হোম, মজুত করা হচ্ছে শুকনো খাবার
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অতি ভারী নিম্নচাপে পরিণত হবে। আর সোমবারই তা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পরিণত হয়ে সাগরে ফুঁসতে শুরু করবে। মৌসম ভবন থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নিয়ে। আগামী বুধবারই তা
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অতি ভারী নিম্নচাপে পরিণত হবে। আর সোমবারই তা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পরিণত হয়ে সাগরে ফুঁসতে শুরু করবে। মৌসম ভবন থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস নিয়ে। আগামী বুধবারই তা উপকূলে আছড়ে পড়বে।

বাংলার উপকূলেই আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু কত গতিবেগে আছড়ে পড়বে ইয়াস, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
তবে মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনাই প্রবল। দিঘা সংলগ্ন এলাকায় এই ঝড় আছড়ে পড়ার কথা। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘণীভূত নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর বাংলার উপকূল অভিমুখে ধেয়ে আসবে।
তবে প্রাথমিকভাবে বাতাসের গতিপ্রকৃতি দেখে মনে হয়েছিল বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার আগে পশ্চিম দিকে অভিমুখ বদল করে ওড়িশা অভিমুকে আছড়ে পড়তে পারে ইয়াস। অন্যদিকে শনিবারের আবহাওয়া বুলেটিনে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলা ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনও উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
সেই কারণে দিল্লির মৌসম ভবন বাংলা ও ওড়িশা উভয় রাজ্যকেই সতর্ক থাকার কথা বলেছে। ওদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতরের তরফেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতি মুহূর্তের আপডেট নবান্নকে দেওয়া হচ্ছে। সেই মতো প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে নবান্নের তরফেও।
ইতিমধ্যে সেখানে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে বসে ঝড়ের গতি প্রকৃতি খেয়াল রাখবেন। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই মতো মেদিনীপুর জেলা শাসকদফতর থেকে জেলার বিভিন্ন ব্লকের পাঠানো হচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী।
আবহাওয়া দফতরের সূত্র অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের একাধিক জেলায় আছে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস!
ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি সর্তকতা জারি করা হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনেও। ইতিমধ্যেই জেলার ব্লক প্রশাসনকে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই ঝড়ের মোকাবিলায় অস্থায়ীভাবে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে তৈরি করা হয়েছে সেভ হোম।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুকনো খাবার এবং খাদ্য সামগ্রী মজুদ করে রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে। অন্যদিকে এই দুর্যোগের মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে জেলার প্রত্যেকটি ব্লকে। সব মিলিয়ে এই দুর্যোগের মোকাবিলায় কার্যত তৎপর রয়েছে জেলা প্রশাসন। মৌসম ভবন জানিয়েছে, ২৬ মে অর্থাৎ বুধবার ভোরে ঝড় আছড়ে পড়তে পারে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে ১২০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার হতে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের গতিবেগ। যদিও কলকাতার হাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০ কিমি। তবে আছড়ে পড়ার প্রাক মুহূর্তে একটু গতি বাড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিমি।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকবে সোমবার থেকেই। সাগরে তীব্র জলোচ্ছ্বাস দেখা দেব। নদীও থাকবে পরিপূর্ণ। কেননা ঘূর্ণিঝড় হানা দিচ্ছে পূর্ণিমার ভরা কোটালে। পূর্ণিমা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত থাকছে। ফলে তীব্র জলোচ্ছ্বাস হবে সাগরে।
১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু ঢেউ আসতে পারে। ঘূর্ণিঝড় আসার আগে থেকেই তীব্র জলোচ্ছ্বাস ভাসাতে পারে সুন্দরবন, গঙ্গাসাগর, দিঘা, মন্দারমণি-সহ প্রভৃতি উপকূলবর্তী এলাকাকে।
তবে ঘূর্ণিঝড় ওড়িশার দিকে অভিমুখ বদল করার সম্ভাবনা এখনই একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না হাওয়া অফিস। সেক্ষেত্রে ভদ্রক ও চাঁদিপুরের মধ্যে ইয়াস আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা।












Click it and Unblock the Notifications