বিসর্জনের শোভাযাত্রা পরিণত পরিবর্তন যাত্রায়, শুভেন্দু-শমীক-সুকান্তর উপস্থিতি নিশ্চিত করে চমক সজলের
নেবুতলা পার্ক বা সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের দুর্গাপুজো পরিচিত বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের পুজো বলেই। এর থিম ছিল অপারেশন সিঁদুর। উদ্বোধন করেছিলেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
যদিও পুজো শুরুর অনেক আগে থেকেই পুলিশ, প্রশাসন দিয়ে এই পুজো কমিটিকে বারবার হেনস্থা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তোলেন সজল। এমনকী পুজো বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। দর্শনার্থীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করেও অবশ্য সজলের পুজোয় জনতার ঢল আটকানো যায়নি।

আজ ছিল এই দুর্গাপুজোর বিসর্জন পর্ব। সজল ঘোষ ডাক দিয়েছিলেন বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে পরিবর্তন যাত্রায় পরিণত করার। মহিলাদের শঙ্খ নিয়ে হাজির থাকতেও অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে সজল সবচেয়ে বড় চমক দিলেন পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি ড. সুকান্ত মজুমদারের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করে।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে 'পরিবর্তন যাত্রা' মিলে যায় সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের দুর্গাপূজার মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জন শোভাযাত্রার সঙ্গে। এই র্যালিটি তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছিল বলে পূজা কমিটির সম্পাদক এবং বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ জানান।
ঐতিহ্যবাহী ঢাকের বাদ্যির সাথে অনুষ্ঠিত এই র্যালিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ছাড়াও বহু দলীয় কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। শোভাযাত্রার সময় কোনও বিজেপি পতাকা প্রদর্শন করা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, এই র্যালিটি রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের "স্বৈরাচারী" শাসনের অবসানের জন্য "দেবীকে একটি স্পষ্ট আহ্বান এবং প্রার্থনা"র প্রতীক।
তিনি আরও দাবি করেন, "এই যাত্রা বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস। রাজ্য প্রশাসন সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের দুর্গাপূজা উদযাপনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা সত্ত্বেও, গত সপ্তাহে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ মণ্ডপে এসেছিলেন। এই পূজার সাফল্য হিন্দু বাঙালি-সহ জাতীয়তাবাদী সনাতনী হিন্দুদের বিজয়।"
অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, সজল ঘোষের মতো বিজেপি নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের মতো একটি পুরানো, জনপ্রিয় দুর্গাপূজাকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করছেন। তবে, বাংলার সচেতন মানুষ গেরুয়া দলকে রাজ্যের বৃহত্তম উৎসবকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করতে দেবেন না।












Click it and Unblock the Notifications