Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

দীপাবলি শেষে কলকাতায় দূষণের জের শ্বাসকষ্ট ও গর্ভকালীন জটিলতা বৃদ্ধি

দীপাবলি ও কালীপুজোর পরেই কলকাতার বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে ধোঁয়া আর শব্দে। এরফলে বেড়েছে বর্ধিত শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির প্রকোপ, গর্ভবতী ও আইভিএফ রোগীদের জটিলতা। শহরের প্রায় সব হাসপাতালেই রোগীর সংখ্যা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসকরা বলছেন দূষণই এই বিপদের মূল কারণ।

চলতি মাসের ২০ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে শহরের দূষণের মাত্রা ছাড়িয়েছে নিরাপদ সীমা। ফলে বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা দু জায়গাতেই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আইএলএস হাসপাতালের সিনিয়র শ্বাসযন্ত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মৃন্ময় মিত্র জানিয়েছেন, "এই কয়েক দিনে শ্বাসযন্ত্রের রোগে ভর্তি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ, আর বর্হিবিভাগে রোগী বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। হাঁপানি, এইসিওপিডি, বুকে জ্বালাভাব, শ্বাসকষ্ট এই সমস্যাগুলোই সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বাজি পটকার ধোঁয়া আর রাসায়নিক গ্যাস ফুসফুসের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।"

টেকনো ইন্ডিয়া ড্যামা হাসপাতালের সিনিয়র শ্বাসযন্ত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সৌম্য সেনগুপ্তও একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, "সাধারণত যেখানে দিনে ১০ থেকে ১৫ জন রোগী আসেন, সেখানে দীপাবলির সময় ৩ দিনে ৪০ জনেরও বেশি রোগী এসেছেন। সালফার ডাই-অক্সাইড আর ইথাইল বেঞ্জিনের মতো বিষাক্ত গ্যাসে বায়ুর মান ভয়ানকভাবে নেমে গেছে।"

মনিপাল হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তথা বিভাগের প্রধান ডাঃ দেবরাজ যশ জানিয়েছেন, "কালীপুজোর আগে সময়ের তুলনায় এখন বর্হিবিভাগে রোগী বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ, ভর্তি রোগী বেড়েছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৃদ্ধ ও আগে থেকেই ফুসফুসজনিত অসুখে আক্রান্ত মানুষরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।"

অভা সার্জি সেন্টারের পরামর্শদাতা চিকিৎসক ডাঃ সৌরভ ভূইঁ জানিয়েছেন, দীপাবলির পর গর্ভবতী ও আইভিএফ রোগীদের শারীরিক জটিলতা বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।

"অনেকেই শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, ঘুমের ব্যাঘাত ও অকালপ্রসবের আশঙ্কা নিয়ে এসেছেন। বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম কণিকা (পি এম ২.৫, পি এম ১০) ফুসফুসের গভীরে ঢুকে এমনকি প্লাসেন্টার বাধাও অতিক্রম করতে পারে, যা মা ও শিশুর জন্য বিপজ্জনক। অতিরিক্ত শব্দও মানসিক চাপ ও অনিদ্রা তৈরি করছে," বলে তিনি বলেন।

তবে ডাঃ যশ জানিয়েছেন, সচেতনতার কারণে অনেক গর্ভবতী নারী এবার ঘরের বাইরে না গিয়ে নিজেকে দূষণ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, ফলে জটিলতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

তবে সব চিকিৎসকরাই একমত, দূষণ রুখতে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার।
ডাঃ মৃন্ময় মিত্র বলেন, "আতসবাজি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোরতা আনতেই হবে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করাও জরুরি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "যাদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে, তাঁদের এন ৯৫ মাস্ক ব্যবহার করা উচিত, দূষণের সময় বাইরে না যাওয়া, আর নিয়মিত ওষুধ খাওয়া দরকার।"

গর্ভবতীদের জন্য ডাঃ ভূইঁ এর পরামর্শ, বাজি পটকা ফাটার সময় ঘরে থাকা, এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা, আর শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।

দীপাবলির উৎসবের আলো নিভে যাওয়ার পরও শহরের আকাশে ঝুলে আছে ধোঁয়ার ছায়া। কলকাতার একাধিক অঞ্চলে বায়ুগুণ সূচক (এ কিউ আই) ২০০ ছাড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, উৎসবের আনন্দ যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন মানুষের সুস্থতা রক্ষা। তাই এবার সময় এসেছে, "আলোয়" নয়, "দূষণমুক্ত আলোয়" উৎসবের শপথ নেওয়ার।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+