কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, বিদেশ মন্ত্রকের দিকে বল ঠেললেন আয়োজকরা
আসন্ন আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড আজ জানিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) অনুমোদন এ ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক।
ফুটফলের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম এই মেলার আয়োজকরা স্পষ্ট করেছেন, বিদেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র ছাড়া বাংলাদেশ থেকে স্টল বরাদ্দের কোনও অনুরোধ বিবেচনা করা হবে না।

গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি যে, বিদেশ মন্ত্রকের অনুমোদন ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে আসা কোনও আবেদন বিবেচনা করা সম্ভব নয়। সরকার সমর্থিত বেসরকারি সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আমরা নিজেদের উদ্যোগে কোনও ঘোষণা করতে পারি না। যদি কোনও নিরাপত্তাজনিত ইস্যু তৈরি হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে?"
২৬ ডিসেম্বর স্টল বরাদ্দের প্রথম লটারির আগে কয়েকজন বাংলাদেশের প্রকাশক অনানুষ্ঠানিকভাবে গিল্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তাঁদের জানানো হয়, বিদেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
ভারতীয় বইয়ের দোকান যারা শুধুমাত্র বাংলাদেশি প্রকাশনা বিক্রি করে, তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গিল্ডের আরেকজন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। কলকাতার বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যপূর্ণ। ১৯৯৬ সাল থেকে একটি বিশাল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে প্রকাশকরা নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছেন।
২০২২ সালে বাংলাদেশ ছিল থিম কান্ট্রি এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মেলাতেও তারা অংশ নিয়েছিল। তবে, গত জুলাই মাসের অস্থিরতা ও পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে ২০২৫ সালের বইমেলায় বাংলাদেশ অংশ নেয়নি।
৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এবারের থিম কান্ট্রি আর্জেন্তিনা। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এবং স্পেন-সহ আরও কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। গিল্ড সভাপতি সুধাংশু শেখর দে জানান, আয়োজকরা ১,০০০টিরও বেশি স্টল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications