সিবিআইকে তোপ দেগে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বললেন,'মিথ্যা বলার অভ্যাস মানিকের রয়েছে'
প্রাথমিক দুর্নীতি মামলাতে ফের একবার আদালতের তোপের মুখে মানিক ভট্টাচার্য। শুধু তাই নয়, নির্দ্বিধায় মিথ্যা বলার অভ্যাস মানিকের রয়েছে বলেও এদিন মন্তব্য করে কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে বলেও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। আজ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে নিয়োগ দুর্নীতির মামলার শুনানি হয়।

আর সেই মামলার শুনানিতেই নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত মানিক ভট্টাচার্যকে নিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের।
অন্যদিকে এদিন ফের একবার কলকাতা হাইকোর্টের ভতসনার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এদিন সিবিআইয়ের তরফে একটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়। আর সেই রিপোর্টে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে বলে খবর।
যেমন দীর্ঘ জেরায় নাকি মানিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন ২০১৪- সালের টেট পরীক্ষার জন্যে OMR সরবরাহের জন্য কোনও টেন্ডার ডাকা হয়নি। তবে ২০১২ সালের টেট পরীক্ষার জন্যে টেন্ডার ডাকা হয়। সেই অনুযায়ী এস.বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানিকে এই বরাত দেওয়া হয়। তবে অন্য কেউ এতে বরাত দেয়নি বলে এই সংস্থাকে দিয়েই কাজ করানো হয় বলে জেরায় জানান মানিক।
তবে সিবিআইয়ের তরফে জমা দেওয়া রিপোর্টে মোটেই খুশি হননি এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পর্যবেক্ষণে বলেন, আমি তো এর থেকে বেশি ভালো জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। এমনকি হাইকোর্টের বিহু আইনজীবীও এর থেকে ভালো জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলেও পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। একই সঙ্গে দ্রুত মামলা জাতে৩ শেষ হয় সে বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
শুধু তাই নয়, এদিন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'দুর্নীতির সমুদ্রে আপনারা সাহায্য করার পরেও আমি হাবুডুবু খাচ্ছি। কিন্তু সিবিআই তো কিছুই করছে না বলে দাবি তাঁর।
শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন শিক্ষা দফতর এত দুর্নীতি দেখেও কীভাবে চুপ করে থাকল তা ভেবে আমি বিস্মিত হই বলে এদিন মন্তব্য করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শিক্ষা দফতর হাতে হাতে হাত রেখে কেউ কেউ এর দুর্নীতি করছে বলেও এদিন মন্তব্য করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মুহূর্তে নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্ত করছে সিবিআই এবং ইডি। আর সেই মামলায় ইতিমধ্যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক প্রভাবশালীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু সিবিআইয়ের তদন্তে মোটেই খুশি নয় কলকাতা হাইকোর্ট।












Click it and Unblock the Notifications