কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট অসম্ভব, ঘুরিয়ে মমতাকে বার্তা রমেশের
বাংলায় এসে তৃণমূলকে জোট বার্তা দিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ। শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কোনওদিন বিজেপি বিরোধী জোট হওয়া সম্ভব নয়।
বাংলায় এসে তৃণমূলকে জোট বার্তা দিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ। শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কোনওদিন বিজেপি বিরোধী জোট হওয়া সম্ভব নয়। কারণ কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে লড়াই দেওয়ার মতো কোনও শক্তি নেই। বিজেপিকে হটাতে কংগ্রেসকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

জয়রাম বলেন, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে কোন জোট হওয়া সম্ভব না। বিজেপি বিরোধী সরকার গঠনই হোক বা আন্দোলন সব কিছুতেই নেতৃত্বর ব্যাটন থাকতে হবে কংগ্রেসের হাতে। তিনি বলেন, তৃতীয় ফন্ট বলে কিছু হয় না। অতীতে তা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার অর্থ বিজেপিকে প্রকারান্তরে সাহায্য করা।
তাঁর কথায়, কংগ্রেস ভেঙে অনেক দলই তৈরি হয়েছে অতীতে। কিন্তু কংগ্রেস নামটা তারা ছাড়তে পারেনি। এই নামটা কিন্তু তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়েছে। কংগ্রেস ছাড়া কেউই চলতে পারেননি আক্ষরিক অর্থে। নেহেরু যদি পেটেন্ট নিতেন যে কংগ্রেস নামটা কেউ যুক্ত করতে পারবে না, তাহলে বোধহয় অন্যরকম হ'ত এবং সেটা ভালো হ'ত। যে যাই করুক না কেন কংগ্রেস নামটা কিন্তু তাদের দলের আগে বা পরে রাখতেই হয়েছে। এটাই কংগ্রেসের বৈশিষ্ট্য এবং মাহাত্ম্য।
জয়রাম রমেশ বলেন, কংগ্রেস হচ্ছে হাতি, অনেকে মনে করেন কংগ্রেস শেষ। কিন্তু কংগ্রেস কংগ্রেসের ঐতিহ্য নিয়েই আছে এবং থাকবেও। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে যে ভারত জোড়ো যাত্রা হচ্ছে তা অতীতে কখনও কোনও দল করার সাহস দেখায়নি। ১৫০ দিন ধরে উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত হাঁটবেন রাহুল গান্ধী। তার সঙ্গে পদযাত্রায় থাকছেন ১২০ জন নেতা-নেত্রী। এরপর পূর্ব থেকে পশ্চিম আরও একটি পদযাত্রা করার ভাবনা আমাদের রয়েছে। তার তারিখ আমরা পরে ঠিক করব।
শুধু ভারত জোড়ো নয় কংগ্রেস এবার পশ্চিমবঙ্গ জোড়া অভিযানেও নামবে। পশ্চিমবঙ্গ জোড়ো হবে, সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত যাত্রা হবে। কংগ্রেসের প্রথম সারির সমস্ত নেতারা থাকবেন ওই বঙ্গ জোড়ো যাত্রায়। কবে এই পদযাত্রা শুরু হবে তা চূড়ান্ত করবে কংগ্রেস কমিটি। ২০ সেপ্টেম্বর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি আলোচনা করে ঠিক করবে, কবে হবে পশ্চিমবঙ্গ জোড়ো অভিযান।
জয়রাম রমেশ বলেন, রাহুল গান্ধীর এই পদযাত্রার সাফল্য দেখে ভয় পেয়েছে বিজেপি। তাই কংগ্রেস ভাঙার মরিয়া চেষ্টায় নেমেছে তারা। গোয়াতে কংগ্রেস বিধায়কদের তুলে নেওয়া তারই ফল। আরও অনেক ঘটনা ঘটবে আমরা সব কিছুর জন্য প্রস্তুত আছি। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি জয়রাম রমেশ অথবা দিগ্বিজয় সিং। তবে তৃতীয় ফ্রন্ট অথবা কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়েছে নেতৃত্ব।
প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, যে কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি আসতেই পারে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যা বলছে তার সঙ্গে আমরাও একমত। কিন্তু বিজেপিশাসিত রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভালো এমনটা মানতে পারব না। আর মোদী যদি বিশ্বকর্মা হয় তাহলে এ কেমন বিশ্বকর্মা যাওয়ার সময় এত কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে, বেকার বাড়ছে, নতুন কোন কলকারখানা গড়ে উঠছে না। আসলে জিনিসের দাম আগুন ছোঁয়া, বেকার যুবকের চাকরি নেই আর প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে চিতা বাঘ আনছেন, এই তো অবস্থা।












Click it and Unblock the Notifications