পুজোর মুখে একটানা বৃষ্টিতে জলে ভাসল কলকাতা, মৃত ৫

গতরাতে একটানা প্রবল বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গোটা শহর। গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শহরের সর্বত্রই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। শহরের বহু জায়গা হাঁটুসমান জলের নীচে, থমকে গিয়েছে যান চলাচল। মহানগরের রাস্তাঘাট, বাজার, অফিসপাড়া থেকে শুরু করে বহু আবাসিক এলাকা এখনও প্রায় জলমগ্ন। টানা বৃষ্টির সময়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে, পূজোর মুখে এই ঘটনা শহরের সংকট আরও প্রকট করে দিয়েছে।

শহরের বহু জায়গা এখনও হাঁটু জলে রয়েছে বলে খবর। ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায় শহরের বেশকিছু এলাকা এখনও জলে থই থই করছে, বিভিন্ন বাড়ি ও আবাসনেও জল ঢুকেছে, বিভিন্ন পথেও জল জমে রয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, আলিপুরে সকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২৩৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল, যা সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বেড়ে দাঁড়ায় ২৪৭.৪ মিমি। তাদের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৩০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৩০ পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় মোট ২৪৭.৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।

সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ ও পূর্ব কলকাতায়। কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, গড়িয়া কামডহরিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৩২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। জোধপুর পার্কে ২৮৫ মিমি, কালীঘাটে ২৮০.২ মিমি, তপসিয়ায় ২৭৫ মিমি, বালিগঞ্জে ২৬৪ মিমি ও চেতলায় ২৬২ মিমি বৃষ্টি নথিভুক্ত হয়েছে।

অন্যান্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে মোমিনপুর (২৩৪ মিমি), চিংড়িঘাটা (২৩৭ মিমি), পালমার বাজার (২১৭ মিমি), ধাপা (২১২ মিমি), সিপিটি খাল (২০৯.৪ মিমি), উল্টোডাঙা (২০৭ মিমি), কুদঘাট (২০৩.৪ মিমি), পাগলডাঙা/ট্যাংরা (২০১ মিমি), কুলিয়া (১৯৬ মিমি) এবং থানথানিয়া (১৯৫ মিমি)।

তবে এই একটানা বৃষ্টির জের শুধু সড়ক পথই নয় ব্যাহত হয়েছে রেল পরিষেবাও। হাওড়া স্টেশন ইয়ার্ড, শিয়ালদহ দক্ষিণ ইয়ার্ড, চিতপুর নর্থ কেবিন, একাধিক কার শেড ও শিয়ালদহ ইয়ার্ডের বেশকিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এরফলে কার্যত বহু লোকাল ট্রেন পরিষেবা বাতিল এমনকি ছোট রুটে চালাতে হয়েছে।একাধিক জায়গায় জল অপসারণে পাম্প বসানো হলেও আশপাশের এলাকা থেকে জল ঢুকে পড়ায় সেই কাজও ব্যাহত হয়েছে।

তবে শুধু লোকাল ট্রেনই নয় দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলের পরিষেবাতেও বিঘ্নিত হয়েছে। হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি, হাওড়া থেকে গয়া ও হাওড়া থেকে জামালপুর বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সময়সূচিতেও বদল আনা হয়েছে বলে রেল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

কলকাতা মেট্রো পরিষেবাও বৃষ্টির জমা জলের জের ব্যাহত হয়েছে, তবে বিমানবন্দরে উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল বলে জানাগেছে।

আবহাওয়া দপ্ততর জানিয়েছে, উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে, যা উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়াতে বুধবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

এছাড়াও ২৫ সেপ্টেম্বরের আশেপাশে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতায় আকাশ সাধারণত মেঘলা থাকবে এবং মাঝেমধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৩ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি কম। আপেক্ষিক আর্দ্রতা সর্বাধিক ১০০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৭৯ শতাংশে নথিভুক্ত হয়েছে।

অনবরত বৃষ্টির জেরে পূজো প্রস্তুতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে এরজেরে শুধু পুজো মণ্ডপ তৈরিতেই ব্যাহত হচ্ছে না, বাজারে কেনাকাটাতেও বড় প্রভাব পড়েছে।ব্যাবসায়ীরাও পুজোর মুখে ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যাবসা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+