দুর্গাপুরের ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস
দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রীর গণধর্ষণের অভিযোগের বিস্তারিত রিপোর্ট রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে জমা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেই রিপোর্ট তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকেও পাঠিয়েছেন। দুর্গাপুরের ঘটনা সম্পর্কে গত কয়েকদিনে তিনি যা যা তথ্য পেয়েছেন, তা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন।
রিপোর্টে রাজ্যপাল নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। অভিযোগকারী মেয়েটি ওড়িশার বাসিন্দা এবং তিনি ডাক্তারি পড়ার জন্য এই রাজ্যে এসেছিলেন। তিনি দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

এই ঘটনার পর মেয়েটির বাবা জানিয়েছেন যে, তাঁরা তাঁকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। রাজ্যপাল দুর্গাপুর গিয়ে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। পরে তিনি জানান যে, মেয়েটিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর বাবা-মা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে সম্মান জানানো উচিত। তাঁদের অনুভূতি বোঝা এবং প্রয়োজনীয় সবরকম সাহায্য করা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিজেও ওড়িশার মেয়ে। এর আগে ওড়িশার বিজেপি সাংসদ প্রতাপচন্দ্র সারেঙ্গি রাজভবনে এসে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এছাড়া, জাতীয় মহিলা কমিশনও দুর্গাপুরের ঘটনা নিয়ে রাজ্যপালকে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
দুর্গাপুর ঘুরে আসার পর সারেঙ্গি সংবাদমাধ্যমকে রাজ্য পুলিশের তদন্তের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা প্রকৃত অপরাধী কিনা, তা নিশ্চিত করা জরুরি। গত ১০ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরে অভিযোগকারী তরুণী তাঁর সহপাঠীর সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে খাবার কিনতে বেরিয়েছিলেন এবং তখনই তিনি নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ।
প্রাথমিকভাবে গণধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে, দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার মঙ্গলবার জানান, প্রাথমিক তদন্তের পর মনে হচ্ছে, ধর্ষক একজনই। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, শুধু ধর্ষণ করলেই নয়, ধর্ষণে সহায়তা করলেও গণধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়। এক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। মঙ্গলবার পুলিশ তরুণীর সহপাঠীকে গ্রেফতার করেছে এবং তাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications