৪০ বছরের খরা কাটিয়ে চিনের উন্নতির ভিত্তি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, দাবি জিনপিংয়ের
৪০ বছরের খরা কাটিয়ে চিনের উন্নতির ভিত্তি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, দাবি জিনপিংয়ের
চিন এমনভাবে নিজের যোগ্যতা বাড়িয়েছে, যাতে চিনকে বিশ্বের প্রয়োজন হয়। তৃতীয় বারের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরেই তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে। সেখানে তিনি দাবি করেন, চিন নিজেকে এমনভাবে তৈরি করেছে, যেখানে বিশ্বের চিনকে প্রয়োজন।

কী বললেন চিনের প্রেসিডেন্ট
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ঠিক যেমন বিশ্ব ছাড়া বিচ্ছিন্ন ভাবে চিনের উন্নয়ন সম্ভব নয়, তেমনি বিশ্বেরও চিনকে প্রয়োজন। সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের দিকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পিছিয়ে পড়েছিল চিন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর চিনে দুটো মিরাক্যাল হয়েছে বলে বলা যেতে পারে। যেমন এক- দ্রুত আর্থিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতা। তিনি বলেন, আমাদের দল জনগণের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে চেষ্টা করে যাবে। পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টির ওপর ভরসা রাখার জন্য চিনের মানুষকে সম্মান জানান।

এক দশকে চিনের সাফল্য
শি জিনপিং আসার পরে চিন যে সামরিক বা অর্থনৈতিক দিক থেকে আগের থেকে অনেক বেশি উন্নত হয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শি জিনপিং কঠোর হাতে বেশ কিছু অর্থনৈতিক সংস্কার ঘটিয়েছে। শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার আগে কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে দুর্নীতি দেখা দেয়। তা দমন করেন। পাশাপাশি চিনের অভ্যন্তরে কমিউনিস্ট বিরোধী মানসিকতা মাথা চাড়া দিতে থাকে। সেগুলো দমন করে কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে নিজের জায়গা আরও মজবুত করেন। করোনা মহামারীর ক্ষেত্রে শি জিনপিং কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। সেখানকার

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সময়ে একাধিকবার আন্তর্জাতিক বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রতিক্ষেত্রেই চিন নিজের দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ হোক বা পেলসির তাইওয়া সফর। চিন পূর্ব লাদাখের সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করে। ভারতের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় চিনা বাহিনী। ভারতের ২০ জন সেনা শহিদ হন। আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে চিন। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় থাকে। আবার পাক ভিত্তিত জঙ্গিদের আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বার বার ভেটো প্রদান করেছে চিন। এমনি রাশিয়ার ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে সাহায্য না করলেও মস্কোকে সরাসরি সমর্থন করে গিয়েছে।

ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে চিন
পশ্চিমি দেশগুলোর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের একদিকে যেমন দুরত্ব বাড়ছে, তেমনি এশিয়ার অভ্যন্তরে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলছে চিন। অন্যদিকে, চিন সামরিক বাহিনী এতটাই শক্তিশালী, সরাসরি বেজিংয়ের বিরুদ্ধে মন্তব্যের ক্ষেত্রেও পশ্চিমি দেশগুলো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশ্রয় নেয়। উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর চিনের মানবিক অত্যাচার বার বার আন্তর্জাতিক মহল মুখর হলেও, এখনও পর্যন্ত চিনের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। চিনের ঋণ নীতির জালে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা সহ একাধিক দেশে ফেঁসেছে। একবার বাধ্য হয়েই আনুগত্য প্রকাশ করতে হচ্ছে বেজিংয়ের ওপর।












Click it and Unblock the Notifications