চিন-পাকিস্তানকে বেকাদায় ফেলতে বড় ঘোষণা আমেরিকার! মুখে হাসি ফুটল ভারতীয় সেনার
চিনের বিরুদ্ধে ভারতকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গিয়েছে সামরিক ড্রোন কেনার ক্ষেত্রে পূর্ব আরোপিত বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথইল করছে ওয়াশিংটন যার জেরে লাভবান হবে ভারত। নয়া নির্দেশ অনুযায়ী, ৮০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে চলা ড্রোন কিন্তে আর বাধা থাকল না ভারতের। আর এর জেরে এবার নিজেদের সেনাকে চিনা বন্দুকের সামনে না পাঠিয়েই লাদাখে নজরদারি চালাতে পারবে ভারত।

কী জানায় হোয়াইট হাউজ?
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউজের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, 'প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এবার থেকে সামরিক ড্রোন বিক্রির ক্ষেত্রে ৮০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার বেগকে সীমা ধরা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্ট্র্যাটেজিক ভাবে আমেরিকার মিত্র রাষ্ট্রদের অনেক সুবিধা হবে। যার জেরে আমাদের নিজেদের দেশে নিরাপত্তাও আরও সুদৃঢ় হবে।'

পাকিস্তানকে সাহায্য করছে বেজিং
প্রসঙ্গত, ভারত-চিনের স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যে সমরসজ্জা বাড়াতে পাকিস্তানকে সাহায্য করছে বেজিং। ইসলামাবাদকে চারটি অস্ত্রবাহী ড্রোন দিচ্ছে ড্রাগনের দেশ। মুখে বলা হচ্ছে, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গদর বন্দরে নজর রাখতে এই ড্রোনগুলি ব্যবহার করা হবে। কিন্তু এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্য দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। আর মনে করা হচ্ছে চিনের এই চালকে প্রতিহত করতেই মার্কিন প্রশাসন তাদের বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। বেজিংকে পাল্টা চাপে রাখতে কোমর বেঁধেছিল ভারতও। আমেরিকার কাছ থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন কিনতে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এর ফল স্পরূপ আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত।

এবার লাদাখে ভারতীয় সেনার শক্তি আরও বাড়বে
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান ছাড়াও এশিয়ার বহু দেশে এই ড্রোন বিক্রি করেছে বেজিং। এরই মাঝে মার্কিন ড্রোন প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতীয় সেনা মার্কিন ড্রোন প্রেডেটর-বি কিনতে চাইছে। এই ড্রোনগুলি নজরদারি চালাতে কার্যক্ষম। ফলে সহজেই শত্রুর ঘরে উঁকি মেরে ইনটালিজেন্স রিপোর্ট তৈরিতে সাহায্য করবে। তেমনই আবার লেজার বোমা বা মিসাইল দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতেও সক্ষম।

চিনের উপর কড়া নজরদারি ভারতের
ভারত-চিন সীমান্তে রাত্রিকালীন টহল দিতে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনার অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, চিনুক হেলিকপ্টার ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানকে৷ প্রসঙ্গত, ১৫ জুন ভারত ও চিনা সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল রাতের অন্ধকারেই। তাই আগাম সতর্কতা হিসাবেই চিনের উপর নজরদারি চালাতে ভারতীয় বায়ুসেনার এই পদক্ষেপ।

অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ভারতের
এদিকে চিনা আগ্রাসন রুখতে ইতিমধ্যেই তিন ডিভিশনের বেশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায়। লাদাখ সেক্টরে চরম ঠান্ডার কথা মাথায় রেখে এই বিশাল বাহিনীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে ভারতীয় সেনা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা মোতায়েন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়সীমা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে করছেন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা। তাই আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে এখন থেকেই সেনা-জওয়ানদের জন্য এলএসি-তে তাঁবুর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

দীর্ঘআয়িত হবে লাদাখের সংঘাত
চিন ইতিমধ্যেই তাদের বিশেষ শীতকালীন তাঁবুগুলিতে পিচিং শুরু করেছে। সিয়াচেন হিমবাহে একই ধরনের তাঁবু এবং কাঠামো রয়েছে এমন কয়েকটি পূর্ব লাদাখ সেক্টরেও ব্যবহার করছে ভারতীয সেনা। তাই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা মোতায়েন জারি থাকবে ভারতের তরফেও। পূর্ব লাদাখ সেক্টরে চরম ঠান্ডার জন্য হাজারটি তাঁবু ফেলার নির্দেশিকা আসতে চলেছে সেনার তরফে।












Click it and Unblock the Notifications