টুইটারের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত, এক নজরে ইলন মাস্কের সঙ্গে মাইক্রোব্লগিং সংস্থার টানা পোড়েন
টুইটারের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত, এক নজরে ইলন মাস্কের সঙ্গে মাইক্রোব্লগিং সংস্থার টানা পোড়েন
দীর্ঘ কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর বিশ্বের সব থেকে ধনী ব্যক্তি টুইটার কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন। এপ্রিল মাসে ইলন মাস্ক টুইটার কেনার প্রস্তাব দেন। টুইটারের সঙ্গে এই বিষয়ে একটি চুক্তি করেন। পরে তিনি টুইটার কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। যার জেরে টুইটার কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। দুই সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি ছিল। তার আগেই টুইটার কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেন ইলন মাস্ক। টুইটার কিনতে গিয়ে একাধিকবার বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইলন মাস্ক বার বার নিজের সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। তার সময় সারণী একবার দেখে নেওয়া যাক...

৩১ জানুয়ারি: ইলন মাস্ক দৈনিক কিস্তিতে টুইটারের শেয়ার কেনা শুরু করেন। মার্চের মাঝামাঝি ইলন মাস্ক টুইটারের প্রায় ৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন।
২৬ মার্চ: টুইটারে ইলন মাস্কের কয়েক মিলিয়ন অনুসরণকারী রয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, টুইটারের বিকল্প হিসেবে তিনি ভাবনা চিন্তা করছেন। যেখানে বাগ স্বাধীনতা থাকবে। এছাড়াও টুইটার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন। টুইটার গণতন্ত্রের অধিকারকে ক্ষুন্ন করছে কিনা এই বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারপরেই টুইটারের সহ প্রতিষ্ঠাতা ও তাঁর বন্ধু জ্যাক ডারসির ও অন্যান্য বোর্ড মেম্বারদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন।
২৭ মার্চ: কোম্পানিতে তাঁর ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব সম্পকে টুইটারকে জানান ইলন মাস্ক। বোর্ডে যোগদানের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে টুইটারের আলোচনা শুরু হয়।
৪ এপ্রিল: ইলন মাস্ক প্রকাশ করেন তিনি ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যর টুইটারের ৯ শতাংশ শেয়ার কিনেছেন। তিনি দ্রুত টুইটারের সব থেকে বড় শেয়ার হোল্ডার হয়ে ওঠেন।
৫ এপ্রিল: টুইটারে ম্যানেজিং ডিরেক্টর বোর্ডে তাঁকে একটা আসন দেওয়া হবে, এই শর্তে তিনি ১৪ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনবেন না বলে আশ্বাস দেন। টুইটারের সিইও পরাগ আগরওয়াল টুইট করে বলেন, আমরা নিশ্চিত ইলন মাস্ক টুইটারের গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সদস্য হতে চলেছেন।
৯ এপ্রিল: পরাগ আগরওয়ালের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মেসেজে কথা হয়। কিন্তু দ্রুত ইলন মাস্কের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়। বিরক্তি প্রকাশ করে ইলন মাস্ক টুইটার কেনার প্রস্তাব দেবেন বলে জানান।
১১ এপ্রিল: পরাগ আগরওয়াল জানান, ইলন মাস্ক বোর্ড সদস্য হিসেবে যোগ দেবেন না।
১৪ এপ্রিল- প্রায় 88 বিলিয়ন ডলারে কোম্পানিটিকে সরাসরি কেনার প্রস্তাব দেন ইলন মাস্ক।
২৫ এপ্রিল: দীর্ঘ আলোচনার পর ইলন মাস্ক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে টুইটার কেনার চুক্তি করেন। ইলন মাস্ক বলেন, তিনি টুইটারের মালিক হতে চেয়েছিলেন। যেখানে ব্যক্তিগত বাগ স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হবে।
২৯ এপ্রিল- টুইটার কেনার জন্য ইলন মাস্ক টেসলার ৮.৫ বিলিয়ন মূল্যের দুটি শেয়ার বিক্রি করেন।
১০ মে: টুইটারে তিনি কীভাবে পরিবর্তন আনবেন সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। ৬ জানুয়ারি ২০২১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি টুইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইলন মাস্ক বলেছিলেন, সেই নিষেধাজ্ঞা তিনি তুলে দেবেন।
১৩ মে: ইলন মাস্ক জাল টুইটার অ্যাকাউন্টগুলো চিহ্নিত করার কথা বলেন। এরপরেই দ্রুত টুইটারে শেয়ারের মূল্য পড়ে যেতে থাকে।
৬ জুন: ইলন মাস্ক টুইটারকে চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে আসার বিষয়ে হুমকি দেন। জাল অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে তথ্য না দিলে তিনি টুইটার কিনবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
৪ জুলাই: ইলন মাস্ক টুইটার কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তিনি বলেন, টুইটার জাল বা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে
১২ জুলাই: চুক্তি ভাঙার জন্য ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে টুইটার মামলা করে।
১৯ জুলাই: বিচারক অক্টোবরে মামলার শুনানি ধার্য করেন।
৫ অক্টোবর: টুইটারকে আগের প্রস্তাব অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান করেন ইলন মাস্ক। এই প্রস্তাব পাওয়ার পরেই টুইটার লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
৬ অক্টোবর - বিচারক ২৮ অক্টোবরের মধ্যেই দুই পক্ষকে একটি সিদ্ধান্ত যাওয়ার আহ্বান করেন।
২০ অক্টোবর - মার্কিন দৈনিক একটি প্রতিবেদনে বলেন, সম্ভবত ইলন মাস্ক টুইটার কর্তৃপক্ষকে ৭৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব দেয়।
২৬ অক্টোবর- ইলন মাস্ক একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তাঁকে টুইটারে সদর দফতরে ঢুকতে দেখা যায়।
২৭ অক্টোবর- ইলন মাস্কের তরফে জানানো হয়, টুইটার কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। টুইটারের তরফে এই বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications