'দক্ষিণ চিন সাগর চিনের একার সাম্রাজ্য নয়!' কোমর বাঁধছে আমেরিকা, বেজিংকে 'সাঁড়াশি চাপ'
চিন-মার্কিন সংঘাতের অধ্যায় বহু পুরনো। তবে তাতে এই মুহূর্তে একের পর এক পর্ব জুড়তে শুরু করেছে। বাণিজ্যিক সংঘাত থেকে যে সমস্যা শুরু হয়েছিল, তা আপাতত দক্ষিণ চিন সাগরের জলসীমা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। করোনার আবহে ক্রমেই এই সংঘাত গুরুতর দিকে মোড় নিচ্ছে। আর তা নিয়েই এবার মুখ খুলে সরাসরি সংঘাতের পথে আমেরিকা।

মাইক পম্পেওর হুঙ্কার
বহুদিন ধরেই মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও, একের পর এক তোপ দাগছিলেন চিনের বিরুদ্ধে। করোনার আবহে তিনি প্রথম থেকেই চিনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন, রোগের সংক্রমণের জন্য। এবার সাফ বার্তায় পম্পেও জানিয়ে দিয়েছেন,' দক্ষিণ চিন সাগর চিনের একার সাম্রাজ্য নয়।'

বেজিংকে সরাসরি হুঁশিয়ারি
'..যদি বেজিং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে..'
আর তারপর স্বাধীন দেশগুলি কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইতিহাস বলছে সিসিপি আরও ভূখণ্ড দখল করবে। এভাবেই এদিন হুঙ্কার দিয়েছেন মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও। কার্যত সরাসরিই চিনকে তিনি দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে আমেরিকার অবস্থান অবহিত করে রাখলেন এই বার্তায়।

চিন সাগরের সংঘাত ও আমেরিকা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, 'দক্ষিণ চিন সাগরের সমস্যা আন্তর্জাতিক আইন দিয়ে সমাধান করতে হবে।' এদিকে, চিন একাধিকবার নিজের বার্তায় স্পষ্ট করেছে যে দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে তারা কোনও মতেই তৃতীয় পক্ষ বা মার্কিনি নাক গলানোকে মেনে নেবে না। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার বর্তামান বার্তা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে।

চিনের কমিউনিস্ট পার্টি কাঠগড়ায়
দক্ষিণ এশিয়ায় চিনা আগ্রাসনের নেপথ্যে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। এর আগেও লাদাখ আগ্রাসনকে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির নীতি বলে দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবারেও দক্ষিণ চিন সাগরে দখলদারির নেপথ্যর কাণ্ডকে চিনের প্যাঁয়তারা বলে দাবি করছে আমেরিকা।

দক্ষিণ চিন সাগর ও বিরোধী জোট
দক্ষিণ চিন সাগরের একাধিক জায়গা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বহু দেশের সঙ্গে সংঘাতে রয়েছে চিন। মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স , জাপান, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান , ভিয়েৎনামের সঙ্গে বহুবার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখে পড়েছে চিন। তবুও এলাকা দখলে রাখতে একাধিক প্যাঁয়তারার আশ্রয় নিতে ছাড়েনি বেজিং। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়াও রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে জানিয়ে দিয়েছে যে দক্ষিণ চিন সাগরে অকা চিনের দখল রয়েছে, তা তারা মানেনা। কার্যত একই সুর ব্রিটেনের গলাতেও । ফলে এমন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে চিন।

চিন সাগর ও আমেরিকার চাপ
দক্ষিণ চিন সাগরের ৯০ শতাংশ এলাকা চিন নিজের বলে দখলদরি চালাচ্ছে। এদিকে, আমেরিকার দাবি, এই এলাকাতে দখল ধরে রাখতে, আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলিকে কোনও সংগঠিত পর্যায়ে লড়াই চালাতে হবে। ফলে চিনের দখলদারি দক্ষিণ চিন সাগরে নস্যাৎ করতে আপাতত বদ্ধপরিকর আমেরিকা।












Click it and Unblock the Notifications