নাসা থেকে অবসর, সুনীতার ৯ মাসের মহাকাশ অধ্যায় স্মরণীয়
মহাকাশ অভিযানের নতুন নতুন মানদণ্ড তৈরি করে অবশেষে নাসা থেকে বিদায় নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনীতা উইলিয়ামস। নয় মাসের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা, স্টারলাইনারের ব্যর্থতা, আর কক্ষপথের নিঃসঙ্গতার গল্প শেষ হল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। বয়স ৬০, কিন্তু স্পেসওয়্যার পরা সেই দৃঢ় মুখ এখনও ভবিষ্যতের অভিযাত্রীদের অনুপ্রেরণা।
বোয়িংয়ের প্রথম ক্রুড 'স্টারলাইনার' এ ২০২৪ সালের জুনে মহাকাশে উঠেছিলেন উইলিয়ামস ও ব্যারি 'বাচ' উইলমোর। আট দিনের পরীক্ষামূলক মিশন কিন্তু হিলিয়াম লিক ও থ্রাস্টারের বিপর্যয়ে সেই সফর আটকে গেল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। নয় মাস, কক্ষপথে বন্দি। উইলমোর আগেই নাসা ছাড়লেও ধৈর্য ধরে লড়লেন সুনীতা। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে স্পেসএক্সের 'ক্রু ড্রাগন'-এ করে পৃথিবীতে ফেরা নাসার বিকল্প ব্যবস্থার শক্তিও সেদিন প্রমাণিত হল।

স্পেসস্টেশনের তিনটি দীর্ঘ মিশনে মোট ৬০৮ দিন, নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ অন্তরীক্ষ যাপন। শুধু তাই নয়, নয়বার স্পেসওয়াক, চমকে দেওয়ার মতো ৬২ ঘণ্টা স্টেশনের বাইরে কাজ, সোলার অ্যারে সারানো থেকে শুরু করে ল্যাব বদলানো, গবেষণা ও রক্ষণাবেক্ষণ সবেতেই ছিল তাঁর সাহসী হাতের ছোঁয়া। মার্কিন নৌবাহিনীর টেস্ট পাইলট হিসেবে অর্জিত শৃঙ্খলাই তাঁকে করে তুলেছিল মহাকাশে চাপের মুহূর্তের কিংবদন্তি যোদ্ধা।
নাসার নবনিযুক্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান তাঁকে বলেছেন "মানব মহাকাশ অভিযানের পথিকৃৎ" ও তাঁর অবসরকে "যোগ্য সম্মান" বলে বর্ণনা করেছেন। এদিকে স্টারলাইনারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বোয়িং চাপে। এ বছরই ক্রুলেস কার্গো টেস্ট প্রপালশন ও থ্রাস্টার সমস্যার সমাধান হলে তবেই আবার মানুষ উঠবে সেই কক্ষে।
স্পেসশাটল যুগের পর বাণিজ্যিক স্পেসফ্লাইটের ঝুঁকি ও সম্ভাবনার এক পূর্ণ অধ্যায় শেষ হল সুনীতা উইলিয়ামসের বিদায়ের সঙ্গে। নিঃসঙ্গতা, অনিশ্চয়তা আর প্রযুক্তিগত ব্যর্থতাকে পেরিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন পৃথিবী থেকে ২৫০ মাইল ওপরে থেকেও মানুষের ইচ্ছেশক্তি নক্ষত্র ছুঁতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications