বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ‘অবিরাম' সহিংসতা, সাত মাসে নিহত ১১৬ জন

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে, মাত্র সাত মাসে ১১৬ জনের মৃত্যু সেই ছবিই সামনে আনছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (HRCBM) এর সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে প্রশাসনিক বিন্যাস বদলানোর পর থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর "নিরবচ্ছিন্ন" হামলা ও নির্মম সহিংসতা বেড়ে গেছে।

রিপোর্টে উল্লেখ, ২০২৫ সালের ৬ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগ ও অন্তত ৪৫টি জেলায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। অর্থাৎ হামলা কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তা রূপ নিয়েছিল দেশব্যাপী সংকটে।

HRCBM এর দাবি, সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বাংলাদেশে নতুন নয়, এটি প্রায় আট দশক ধরে চলা একটি চক্র। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে শুরু করে '৫০, '৬৪, '৭১ বারবার হত্যালীলা, উচ্ছেদ ও সম্পত্তি দখল ছিল নিয়মিত ঘটনা। স্বাধীনতার পরেও সেই ধারা থামেনি ১৯৮৯, ১৯৯০, ২০০১, ২০০৪, ২০১২, ২০১৫, ২০২১, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ফের বড় মাপের হামলার রেকর্ড রয়েছে।

রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে লক্ষ্য করে হত্যা ৪৮.৩%, গণপিটুনি বা লিঞ্চিং ১০.৩%, সন্দেহজনক বা অজানা মৃত্যু ১২.৯%, বড় ধরনের সহিংস ঘটনায় মৃত্যু ১২.৯%, হেফাজতে বা পুলিশের হাতে মৃত্যু ৬.৯%, সেনা বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে মৃত্যু ৮.৬%, সংস্থার পর্যবেক্ষণ এসব মৃত্যু 'হঠাৎ অপরাধ' বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এগুলো কাঠামোগত বৈষম্য ও জনসংখ্যাগত চাপের ফসল।

রিপোর্টে উল্লেখ, ১৯৪৬ সালে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সংখ্যালঘুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০%, ২০২০ এ এসে তা নেমে দাঁড়ায় ৯% এর নীচে। সংস্থার ব্যাখ্যা এটি দীর্ঘমেয়াদী নিপীড়নের প্রমাণ, যেখানে প্রজন্ম ধরে পুরো সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ বা হেয় করা হয়েছে।

গণপিটুনির ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাস এর লিঞ্চিং রিপোর্টে উল্লেখিত অন্যতম উদাহরণ। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে জনতার হাতে তার মৃত্যু ঘটে। অভিযোগ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেও সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ করেনি। এ ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘুদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি করেছে।

HRCBM বলছে, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ অভিযোগ নিতে অনাগ্রহী, তদন্তেও গড়িমসি করে। রাজনৈতিক প্রভাব ও বাছাই করে আইন প্রয়োগের ফলে অপরাধীরা প্রায়ই শাস্তির মুখ দেখে না ফলে দায়মুক্তির পরিবেশ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

রিপোর্ট জানাচ্ছে অনেক নিহতই পরিবারে একমাত্র রোজগেরে ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বেঁচে থাকা শিশু, বিধবা ও প্রবীণ সদস্যরা স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা ও দারিদ্র্যের মুখে পড়েছেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+