পঞ্চশিরের আফগান ও তালিবানদের মধ্যে শান্তিচুক্তি
পঞ্চশিরের আফগান ও তালিবানদের মধ্যে শান্তিচুক্তি
আফগানিস্তানের ৯৫ শতাংশ দখল করলেও উত্তরে পঞ্চশির এলাকা সহ অনেকটা অংশ এখনও তানিবানদের হাতের বাইরে৷ এই অংশে লড়াই জারি রেখেছে আগের আফগান সরকার এবং তালিবান বিরোধী গোষ্ঠীগুলি৷ সংবাদমাধ্যমের খবর এবার আর যুদ্ধ নয় তালিবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির রাস্তায় হাঁটছে আফগানিস্তানের নর্দান-অ্যালয়েন্স।

পারওয়ানেই শান্তি চুক্তি!
জিও নিউজের প্রকাশিত খবর,গত দু'দিনে পারওয়ান প্রদেশের চরিকার এলাকায় নর্দান-অ্যালায়েন্স আফগানিস্তান এবং তালিবানদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেখানেই শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়েছে কেউ কারও এলাকা দখল করবে না। একে অন্যের এলাকাতে আক্রমণ না করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সংবাদসম্মেলন করে চুক্তির বিষয়ে জানানো হতে পারে বলে সংবাদসংস্থাটি৷ আফগানিস্তানের স্বার্থেই এই চুক্তি বলে দাবি করা হয়েছে তালিবানের পক্ষ থেকে৷

পঞ্চশির অধরা তালিবানের!
বহু বছর ধরেই পঞ্চশির এলাকাতে তালিবান বিরোধী গোষ্ঠীগুলির শাসন রয়েছে৷ এই এলাকার বর্তমান প্রভাবশালী নেতা আহমেদ মাসুদ। তাঁর বাবা আহমেদ শাহ মাসুদের সময়ও এই এলাকায় ঢুকতে পারেনি তালিবানরা৷ পরে একজন মার্কিন সাংবাদিকের ছদ্মবেশে একটি মানববোমা পাঠিয়ে শাহ মাসুদকে হত্যা করে তালিবানরা৷

পঞ্চশির ও তালিবানের লড়াই পুরনো!
এরপর থেকে আফগানিস্তানের এই অংশে তালিবানদের প্রতি ক্ষোভ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে৷ পঞ্চশির এলাকার নেতা আহমেদ মাসুদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন আশরফ গনি সরকারের প্রভাবশালী নেতা আমরুল্লা সালেহ। তিনিও ওই পঞ্চশির অঞ্চলেই রয়েছেন। এবং আশরফ গনি দেশ ছাড়ার পর তিনি নিজেকে আফগানিস্তানের কেয়ারটেকার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন৷

তালিবান শাসনে পঞ্চশির কাঁটা!
কাবুল দখলের পরও আফগানিস্তানে তালিবান শাসনে কাঁটার মতো ফুটে রয়েছে পঞ্চশির। আহমেদের গরিলা বাহিনীর আক্রমণের সামনে বারবার থমকে যেতে হয়েছে তালিবানদের। তাই তিনলক্ষ আফগান সেনার সামনে সহজ জয় পেলেও তুলনায় অনেক অল্প সংখ্যায় নর্দান-অ্যালায়েন্স বাহিনীর কাছে হার মানতে হয়েছে তালিবানদের৷ এরপর তিনদিন আগে পঞ্চশির জয়ের জন্য 'ফাইনাল ব্যাটল'-এর ডাক দিয়েছিল তালিবান-রা৷ এবং অনেকেই ধরেও নিয়েছিলেন এবার আহমেদ মাসুদ এবং আমরুল্লা সালেহর আত্মসমর্পণ সময়ের অপেক্ষা মাত্র৷ কিন্তু এখানেও বিধি বাম তালিবানদের৷ এবারও নিজদের স্বতন্ত্রতা ধরে রাখল পঞ্চশির৷

কেন শান্তিচুক্তি!
এমন কি হল যাতে তালিবানের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে অনাক্রমণ এবং শান্তি চুক্তির পথে হাঁটতে হল তাও আবার সংখ্যায় অল্প কিছু আফগানদের কাছে, তা অবশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। তবে কারণ যাই হোক না কেন তালিবানের এই শান্তিচুক্তি ও আপাত পিছু হঠাতে আশার আলো দেখছেন আফগানিস্তানের বহু মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications