Pahalgam: আতঙ্কে কাঁপছে পাকিস্তান, লাহোর-ইসলামাবাদের আকাশ এখন 'নো ফ্লাই জোন'!
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে, পাকিস্তান তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে লাহোর এবং ইসলামাবাদে নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কোনও বিমানকেই এই নির্দিষ্ট আকাশসীমার মধ্যে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
পাকিস্তান মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (PIA) আজ স্কার্দু এবং গিলগিটগামী দশটি নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফ্লাইটের সময়সূচী থেকে জানা গিয়েছে, করাচি এবং লাহোর থেকে স্কার্দুগামী পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (PIA) এর দুটি ফ্লাইট (ফ্লাইট নম্বর ৪৫৪) বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও, ইসলামাবাদ থেকে স্কার্দুগামী আরও দুটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়াও, ইসলামাবাদ-গিলগিট চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দরের সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদ থেকে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার দুটি স্কার্দুগামী ফ্লাইটও অনিশ্চিত। বিমানবন্দর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তার কারণে বাতিল করা হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘটিত সাম্প্রতিক এই জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে ভারত যখন কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছে, ঠিক তখনই পাকিস্তান তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের আকাশসীমায় এই নো-ফ্লাই নোটিশ জারি করার সিদ্ধান্ত নিল। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের সরকারের কাছে এমন "বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য" রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ভারত আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ভারত তাদের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ন্যায্যতা প্রমাণ করার জন্য পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার বিষয়ে "ভিত্তিহীন এবং মনগড়া" অভিযোগ ব্যবহার করছে। তিনি এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের কঠোর প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় পাকিস্তান ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে, ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু সোমবার জানিয়েছেন যে, সরকার পাকিস্তানের এই আকাশসীমা বন্ধের ফলে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এর একটি উপযুক্ত সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ভয়াবহতা এবং এর ফলস্বরূপ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট তীব্র উত্তেজনা একটি বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ভারতের প্রতিশোধের হুমকির মুখে পাকিস্তানের নো-ফ্লাই জোনের পদক্ষেপ স্পষ্টতই একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং উভয় দেশের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহের গভীরতাকে ফুটিয়ে তোলে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও শান্তি বজায় রাখতে এবং উভয় দেশকে কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications