ধূমপান, মদ্যপানের থেকেও ভয়ঙ্কর! পর্ন আসক্তি নিয়ে চিকিৎসকের কঠোর সতর্কবার্তা, বাড়ছে বিষণ্ণতা ও একাকীত্ব
বর্তমান প্রজন্মের কাছে হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট,আর এক ক্লিকেই হাজারো 'অ্যাডাল্ট' ভিডিও। কিন্তু এই তথাকথিত বিনোদনের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ভয়ঙ্কর এক ফাঁদ। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওয় চিকিৎসক ডা. মানন ভোরা জানিয়েছেন, পর্ন আসক্তি ধূমপান ও মদ্যপানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর।
অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মানন ভোরা সতর্ক করেছেন, নিয়মিত পর্ন দেখা শুধু অভ্যাস নয়, এটি এক ধরনের মানসিক রোগে রূপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, "এমন এক আসক্তি, যা মদ বা সিগারেটের থেকেও বিপজ্জনক, অথচ এনিয়ে কেউ কথা বলে না। আমি বলছি অ্যাডাল্ট কনটেন্ট দেখার আসক্তি সম্পর্কে।"

ডা. ভোরা জানিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য কাউকে লজ্জা দেওয়া নয়, উপরন্তু তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "যখন আপনি ঘন ঘন পর্ন দেখেন, তখন তা মস্তিষ্কের 'রিওয়ার্ড সিস্টেম' কে অতিমাত্রায় উদ্দীপিত করে। ঠিক সেই অংশটি, যা মিষ্টি, নেশা বা জুয়া খেলায় সক্রিয় হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক আরও তীব্র উদ্দীপনা চাইতে থাকে। জীবনের সাধারণ সুখগুলো তখন আর আনন্দ দেয় না। এতে তৈরি হয় মানসিক সমস্যা,যেমন উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও একাকীত্ব।"
তিনি আরও জানান, অনেকেই মানসিক চাপ ও একগুয়েমি কাটাতে পর্ন দেখেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তা নির্ভরতার চক্রে পরিণত হয়, যা থেকে বেরোনো কঠিন।
ডা. ভোরার এই ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। বহু নেটিজেন মন্তব্য করেছেন যে তাঁরা নিজেদেরও এই ফাঁদের মধ্যে ডুবে যেতে দেখেছেন। এক ব্যবহারকারী লেখেন, "একদম ঠিক বলেছেন ডাক্তার। আমি নিজেও লক্ষ্য করেছি, যখন বন্ধ করেছি তখন মনটা অনেক হালকা আর স্বচ্ছ মনে হয়েছে।"
একজন দর্শক প্রস্তাব দেন, "শুধু সতর্ক করা নয়, কীভাবে এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তার ব্যবহারিক উপায়ও জানানো উচিত।"
বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন ইন্টারনেটের 'ডোপামিন হিট' এর নেশা থেকে তরুণরা দ্রুত মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন। সেই প্রেক্ষিতেই ডা. ভোরার এই সতর্কবার্তা যেন নতুন করে চোখ খুলে দেয়।












Click it and Unblock the Notifications