Modi In Croatia: সন্ত্রাসবাদ মানবতার শত্রু, ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের পাকিস্তানকে বার্তা মোদীর
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার পর ক্রোয়েশিয়ার ভারতকে সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়েছেন।
জাগ্রেবে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "আমরা একমত যে সন্ত্রাসবাদ মানবতার শত্রু এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী শক্তির বিরুদ্ধে। ২২ এপ্রিল ভারতে জঙ্গি হামলায় ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রোয়েশিয়ান সরকারের সমবেদনার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।"

তিনি আরও বলেন, "এমন কঠিন সময়ে, আমাদের বন্ধু দেশগুলির সমর্থন আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান ছিল।" এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারত ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বের উপরও জোর দেন। এবং সেই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ক্রোয়েশিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, "আমরা উভয়ই সম্মত যে আজকের বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত-ইউরোপ অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থন ও সহযোগিতা খুবই জরুরি।"
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্লেনকোভিচ বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা ক্রোয়েশিয়া খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে, কারণ সন্ত্রাসবাদ সারা বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
প্লেনকোভিচ আরও বলেন, "ভারতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় আমরা শোক প্রকাশ করেছি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিচারে সারা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলির শান্তি রক্ষায় অবদান রাখা উচিত। সন্ত্রাসবাদ বিশ্ব জুড়ে স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।" তিনি আরও জানান, অর্থনীতি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা - সমস্ত ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
প্লেনকোভিচ বলেছেন, "আমরা প্রতিরক্ষা শিল্প, পরমাণু শক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং তথ্য প্রযুক্তিতে সহযোগিতা জোরদার করতে চাই। ভারত আইটি সেক্টরে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে।"
চলতি বছরের ২২ এপ্রিল, পাকিস্তানের মদতে জঙ্গিরা জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ জনকে হত্যা করে, যাদের মধ্যে সিংহভাগ ছিলেন পর্যটক। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ভারত ৭ মে 'অপারেশন সিঁদুর' চালায় এবং পাকিস্তানের ভিতরে থাকা জঙ্গি শিবিরগুলিকে ধ্বংস করে দেয়।
ভারতের এই পদক্ষেপের পর পাকিস্তান তিনদিন ধরে ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ব্যর্থ চেষ্টা করে। পাল্টা জবাবে ভারতীয় সেনা ফের পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায়। উপায় না দেখে পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে সন্ধিতে রাজি হয়। এবং আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications