Pahalgam: "লস্কর অতীত, পহেলগাঁওয়ের হামলা ভারতেরই সাজানো," যুদ্ধের হুঁশিয়ারী পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

জম্মু ও কাশ্মীরে ২২শে এপ্রিলের হামলার পর নয়াদিল্লির কঠোর প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিশেষ করে পাকিস্তানের জন্য সংকট তৈরি করার জন্য মিথ্যা আপরাধের দায় চাপানোর মাধ্যমে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলা পরিকল্পনা করেছে ভারত।

তাঁর ভিত্তিহীন দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ না দিয়েই আসিফ বলেছেন, লস্কর-ই-তৈবা, যার শাখা দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট নিরস্ত্র মানুষের উপর কাপুরুষোচিত হামলার দায় স্বীকার করেছে। "এই ঘটনায় পাকিস্তানের কোনও অস্তিত্ব নেই" এবং ভারত নিজেদের স্বার্থে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য এই অভিযোগগুলো করছে।

Khawaja Asif

উল্লেখ্য, ২৬/১১ মুম্বাই জঙ্গি হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাঈদ লস্করের প্রধান, এখনও পাকিস্তানে বসবাস করছে। ব্রিটেনের স্কাই নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে আসিফ দাবি করে, "দিল্লি থেকে আসা প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য অবাক করার মতো ছিল না, আমরা অনুমান করতে পারি যে এই পুরো ঘটনাটি এই অঞ্চলে, বিশেষ করে আমাদের জন্য, এক ধরণের সংকট তৈরি করার জন্য সাজানো হয়েছিল।"

এছাড়াও তাঁর আরও দাবি, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট এমন একটি সংগঠন যার কথা আগে কখনও শোনা যায়নি। "আমাদের সরকার স্পষ্টভাবে এর নিন্দা করেছে। পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার। কিন্তু ভারতে এই ধরণের প্রবণতা চলছে। এবারও যাদের বিরুদ্ধে (হামলার) অভিযোগ আনা হচ্ছে, তাদের কেউই চেনা নয়। সেই সংগঠনের নামও কখন শুনিনি," তিনি বলেন।

সাক্ষাৎকারে তাঁকে ফ্রন্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, যা লস্করের একটি শাখা এবং যে বিষয়ে পাকিস্তানি মন্ত্রী মিথ্যা কথা বলেছিলেন। মন্ত্রী বলেন, "লস্কর অতীতের একটি নাম। এর কোনও অস্তিত্ব নেই।"

যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি কি ভারতকে তাদের নিজস্ব নাগরিকদের উপর পহেলগাঁও হামলার জন্য দোষারোপ করছেন এবং তাঁর দাবির পক্ষে তাঁর কাছে কী প্রমাণ আছে, তখন আসিফ ঘাম মুছতে মুছতে বলেন, "হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ। অবশ্যই। অবশ্যই, তারা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।"

এরপর তোতলাতে তোতলাতে মন্ত্রী আরও বলেন, "তারা কখনও কোনও প্রমাণ নিয়ে আসেনি। তারা নিজেদের সুবিধার জন্য পরিস্থিতি তৈরি করে। পাকিস্তানে আর লস্করের অস্তিত্ব নেই। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, এই জঙ্গি হামলা সাজানো। পুলওয়ামাতেও সাজানো হয়েছিল।"

পাকিস্তান বিমান হামলার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ ২০১৯ সালে বালাকোটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলার কথা স্মরণ করেন এবং এটিকে "ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন" বলে অভিহিত করেন।

তাঁর দাবি, "এটি আগেও পুলওয়ামায় ঘটেছে। এটি একটি ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন ছিল। আমরা কখনও এই হামলার পিছনে থাকা সংগঠনের কথা শুনিনি। যদি ভারত আমাদের উপর আক্রমণ করে, আমরাও প্রতিশোধ নেব।"

তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে "সর্বাত্মক যুদ্ধ" শুরু হওয়ার হুমকিও দেন এবং বলেন, দুটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বকে "উদ্বিগ্ন" হওয়া উচিত। "যদি কোনও সর্বাত্মক আক্রমণ বা এরকম কিছু হয়, তবে অবশ্যই একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ হবে," তিনি বলেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পহেলগাঁওয়ের হামলার বিষয়ে প্রথম প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে,ভারত প্রত্যেক জঙ্গি এবং তাদের সমর্থকদের "শনাক্ত করবে, ট্র্যাক করবে এবং শাস্তি দেবে" এবং "পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত" তাদের তাড়া করবে। যাতে এই ধরনের দুঃসাহসিক ঘটনা আর না ঘটে।

Take a Poll

প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং 'সর্বাত্মক যুদ্ধের' হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, উভয় দেশের উচিত সংযম বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা। অন্যথায়, এই দুই দেশের মধ্যে যেকোনও সংঘাতের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+