প্যাংগং লেক থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক চিন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রস্তাব ভারতের
লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসল ভারত-চিন। এদিনের বৈঠকের ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে লাদাখ সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে হবে, নাকি বিবাদ ভুলে স্থিতাবস্থায় ফিরে যাবে দুই দেশ।

পুরনো স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চাইছে ভারত
শনিবার এই দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন দুই দেশের সেনা কমান্ডাররা। এদিন চিনের মলডোয় সকাল ৯টায় বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা বেশ কিছুক্ষণ দেরিতে শুরু হয় বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকেই ভারত দাবি করেছে প্যাংগং লেক সংলগ্ন এলাকা থেকে দ্রুত স্থল ও বায়ু সেনা সরিয়ে নিক চিন। কারণ ভারতে সেখানে পুরনো স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চাইছে। সামরিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরেরও এদিন বোঝাপড়া হতে পারে বলে খবর।

কারা উপস্থিত ছিলেন এদিনে বৈঠকে?
এদিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায়ের এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লাদাখে সেনাবাহিনীর ১৪ নম্বর কোর্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। পাশাপাশি চিনের তরফ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন পিপলস লিবারেশন আর্মির দক্ষিণ জিনজিয়াং মিলিটারি রিজিয়নের কম্যান্ডার জেনারেল লিউ লিন।

কোন কোন এলাকা থেকে সেনা সরাতে চাইছে ভারত?
পাশাপাশি এদিন ভারতের তরফে আরও বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়। বর্তমানে পুরনো স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্যাংগং হ্রদ, গালওয়ান উপত্যকা, এবং গোগরা উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। দু'দেশই একই কাজ করুক, এটাই চায় ভারত। পাশাপাশি আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র যা মজুত করা হয়েছে তাও সরানোর কথা বলা হয়।

লাদাখ সীমান্তে নতুন সেনা কমান্ডার নিয়োগ চিনের
এদিকে লাদাখ সীমান্তে নতুন করে রোজই নতুন ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে চিন। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ওই স্পর্শকাতর এলাকায় নতুন সেনা কমান্ডার নিয়োগ করেছে চিন। ইতিমধ্যেই এএলসিতে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) স্থল সেনার দায়ভার তুলে দেওয়া হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জু কিলিং-কে। বর্তমানে তাকে পিএলএ-র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের গ্রাউন্ড ফোর্সের নতুন কমান্ডার হিসাব নিয়োগ করেছে চিন।

প্যাংগং লেক এলাকায় চিনা সেনার একাধিক রদবদল
একইসাথে লাদাখ সীমান্তের প্যাংগং লেক বরাবর একাধিক ফিঙ্গারে বারংবার নিজেদের অবস্থান পাল্টে যাচ্ছে লালফৌজ। একইসাথে সেখানে সেনা ছাউনির সংখ্যাও অনেকটাই বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেনা সূত্রে খবর, সামরিক অস্ত্রশস্ত্র চালনার সুবিধার্থে সেখানে বর্তমানে একটি নির্মাণ কাজও করেছে চিন। ফিঙ্গার ৪ ও ফিঙ্গার ৮ বরাবর সেনার একাধিক রদবদল উপগ্রহ চিত্রে উঠে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। আর এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত।












Click it and Unblock the Notifications