দিতওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার পাশে ভারত, চলছে সাগর বন্ধু অভিযান, মৃতের সংখ্যা ছুঁল ১২৩
দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা যখন ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার তাণ্ডবে বিধ্বস্ত, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশ ভারতের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য ফের প্রমাণ করল দুই দেশের বন্ধুত্ব শুধু কূটনৈতিক নথিতে সীমাবদ্ধ নয়, বাস্তবেও সমান দৃঢ়।
রাতারাতি উড়ে গেল সাহায্য, পৌঁছল এনডিআরএফ দল শুক্রবার গভীর রাতে অপারেশন সাগর বন্ধু নামের বিশেষ মানবিক সহায়তা মিশন শুরু করে ভারত। উত্তরপ্রদেশের হিন্দন এয়ারবেস থেকে উড়ে যায় বায়ুসেনার C 130 ও IL76 বিমান। ভোরের আগেই পৌঁছে যায় ২১ টন ত্রাণসামগ্রী ও ৮০ এর বেশি এনডিআরএফ কর্মী। ৮ টন উদ্ধার সরঞ্জাম।

ভোর ১.৩০ নাগাদ কলম্বোর বান্ডারানাইকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে প্রথম C 130 বিমান। খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, নিত্যপণ্য, স্যানিটারি সামগ্রী প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসই থাকে সেই চালানে। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশন ও শ্রীলঙ্কা বায়ুসেনার আধিকারিকরা।
এর আগে ভারতের বিমানবাহী রণতরী INS Vikrant ও ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজ INS Udaigiri বহন করে পৌঁছে দিয়েছিল প্রথম দফার ত্রাণ।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ডিএমসি জানিয়েছে, দিতওয়ার ঘূর্ণিঝড় ও লাগাতার বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ভূমিধসে দেশে এখন পর্যন্ত ১২৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ ১৩০ জন।
৬১ হাজার পরিবারের ওপর প্রভাব পরেছে, ২ লক্ষের বেশি মানুষ গৃহহীন বা ক্ষতিগ্রস্ত, ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি ত্রাণশিবিরে।
ক্যাণ্ডি ও বাদুল্লা জেলার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। শুধু ক্যাণ্ডিতে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি। বাদুল্লা জেলায় একের পর এক ভূমিধস গ্রাস করেছে বহু বাড়ি, মৃত কমপক্ষে ৩৫।
পুরো দ্বীপ অন্ধকারে, নদী উপচে বিপদসীমার বাইরে, দেশের বড় বড় জলাধার ও নদীগুলি হঠাৎ জল বাড়ার ফলে বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেছে।
কেলানি নদী উপচে পড়ে, শুক্রবার রাতেই শুরু হয় ব্যাপক জলবন্দি অবস্থা।
নিম্নভূমিতে দ্রুত জলের স্তর বাড়ায় জারি হয় তাৎক্ষণিক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ।
শুক্রবার সকাল থেকেই দ্বীপের প্রায় ৩৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সিইবির প্রায় ৭০ লক্ষ গ্রাহক পরিষেবা পাচ্ছেন না। অবিরাম বৃষ্টি ও প্লাবনে মেরামতকাজ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ভারতের সংহতি বার্তা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যাণ্ডেলে লিখেছেন, "শ্রীলঙ্কার এই কঠিন সময়ে ভারত তাদের পাশে রয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।"
২০১৬র বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবারের জলস্তর ডিএমসি সতর্ক করেছে এ বছরের বন্যা পরিস্থিতি ২০১৬ সালের ভয়াবহ বন্যার থেকেও খারাপ হতে পারে, যখন সারাদেশে ৭১ জন মারা গিয়েছিলেন।
২০০৩ সালের জুনের পর এটিই হতে পারে শ্রীলঙ্কার অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যখন বন্যায় প্রাণ গিয়েছিল ২৫৪ জনের।
ঘূর্ণিঝড় সরে গেলেও থামছে না বিপর্যয়, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস দিতওয়া শনিবার রাতের মধ্যে দ্বীপ ছাড়লেও আরও ২০০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরাঞ্চলে এখনো বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি চলছে।
এদিকে, প্রবল বিপর্যয়ের মধ্যেও দেশজুড়ে চলছে উদ্ধারকাজ বিমান, নৌযান, নৌকা দিয়ে একের পর এক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনছে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী।
-
সরস পোস্টে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানের ডাক কমিশনের, হুঁশিয়ারি দুষ্কৃতীদের, তৈরি বিতর্কও -
কয়লা পাচার মামলায় এবার আইপ্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশকে গ্রেফতার করল ইডি -
লোকসভা আসন ৮৫০ করার প্রস্তাব কেন্দ্রের, ২০২৯ থেকে কার্যকর! -
নয়ডা শ্রমিক বিক্ষোভে পাকিস্তানি যোগ! সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, গ্রেফতার ৩৫০ -
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নীতীশ কুমারের ইস্তফা, এক যুগের অবসান -
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের নতুন দফায় আলোচনার প্রস্তুতি, বৈঠক হতে পারে এই সপ্তাহেই -
নয়ডায় নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভ, ফের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি -
হরমুজ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক! মোদী-ট্রাম্পের ফোনে দীর্ঘ আলোচনা, বড় চুক্তির ইঙ্গিত -
বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের গাড়ি তল্লাশি ও চক্রান্তের অভিযোগ, কমিশনে নালিশ ঘাসফুল শিবিরের -
বাংলার ভোটে প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, সবচেয়ে বেশি কোন জেলায়? -
মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বজুড়ে সঙ্কটের মাঝেও এগোচ্ছে ভারতের অর্থনীতি, জিডিপি বৃদ্ধিতে ইতিবাচকতার পূর্বাভাস আইএমএফের










Click it and Unblock the Notifications