সীমান্তে শান্তিরক্ষায় ভারত-চিন বৈঠক, ইতিবাচক আলোচনায় খুশি দু'পক্ষই
পশ্চিম লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে ভারত ও চিনের মধ্যে ফের উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। দুই দেশের কমান্ডার স্তরের প্রতিনিধিরা সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, বৈঠকটি ছিল গঠনমূলক ও গভীর। এদিনের বৈঠকে সীমান্ত অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা নিয়ে দুই পক্ষই নিজেদের মতানৈক্য কাটিয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
চিন জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে আলোচনার রূপরেখা তৈরি হয়। শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও যোগাযোগ সচল রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে এই দুই দেশ। সীমান্ত বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথ উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

একটানা চারবছরের বিরতির পর অবশেষে ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের শুরু হল। কোভিড অতিমারি ও পূর্ব লাদাখের উত্তেজনার জেরে ২০২০ সালের শুরু থেকে এই উড়ান পরিষেবা বন্ধ ছিল। কূটনৈতিক স্তরে বরফ গলতেই ফের আকাশ পথ খুলে গেল দুই দেশের জন্য।
ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো কলকাতা থেকে চিনের গুয়াংজু রুটে দৈনিক নন স্টপ ফ্লাইট চালু করেছে। ২৬ অক্টোবর প্রথম উড়ানটি কলকাতা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন এয়ারলাইনের প্রতিনিধি, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীরা। ওই উড়ানে সেদিন মোট ১৭৬ জন যাত্রী ছিলেন।
কলকাতায় নিযুক্ত চিনের ডেপুটি কনসাল জেনারেল চিন ইয়ং
উড়ান পরিষেবা পুনরায় চালুর দিনটিকে "দুই দেশের সম্পর্কে নতুন সূচনা" বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য
"ভারত ও চিন হাজার বছরের পুরনো প্রতিবেশী। আমাদের শেখার আছে একে অপরের থেকে। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী নই, আমরা অংশীদার।"
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর নেতৃত্বে ভারত ও চিনের যৌথ ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিআআইসিএস ও এসসিও এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের সহযোগিতা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ রাজনীতির জন্য প্রয়োজনীয়।
অবশেষে সীমান্তে শান্তির বার্তার পাশাপাশি আকাশ পথে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় শুরু হওয়া এই দুই ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, দিল্লি ও বেজিং হয়তো সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে ঢুকতে চাইছে। তবে বাস্তবে উত্তেজনা আদতে কতটা কমবে, তা সময়ই উত্তর দিবে।












Click it and Unblock the Notifications