গুজরাতের যুবক ইউক্রেনে বন্দি ! পুতিনের সেনায় ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন ভারতীয় ছাত্র
গুজরাতের মোরবীর ২২ বছরের যুবক মজোতি সাহিল মহম্মদ হোসেন পড়াশোনার জন্য গিয়েছিলেন রাশিয়ায়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার জীবনের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায় তিনি পুতিনের বাহিনীর 'ভাড়াটে সৈনিক' হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দেন বলে দাবি করা হয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তরফে।

ইউক্রেনের সেনাদের দাবি, যুদ্ধের ময়দানে ধরা পড়েছেন সাহিল। তাঁরা জানিয়েছেন, রুশ সেনাদের হয়ে লড়াইয়ে নামার আগে ওই ভারতীয় যুবককে মাত্র ১৬ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এর পরই তাঁকে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে ১ অক্টোবর। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হতেই তিনি আত্মসমর্পণ করেন ইউক্রেনের সেনা বাহিনীর কাছে।
সাহিল জানিয়েছেন, "আমি প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ইউক্রেনের একটি পরিখার মুখোমুখি হই। সঙ্গে সঙ্গেই রাইফেলটিকে নামিয়ে বলি'আমি যুদ্ধ করতে চাই না, আমার সাহায্য দরকার।'"
তাঁর কথায়, সেনায় যোগ দিলে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কিছুই পাইনি। তিনি স্পষ্ট বলেন, "আমি রাশিয়ায় ফিরতে চাই না। সেখানে সত্যের কোনও স্থান নেই। বরং ইউক্রেনেই জেলে থাকি।"
'দ্য কিভ ইনডিপেনডেন্ট' এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাহিল রাশিয়ার এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নানা প্রলোভনে ফেঁসে তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে নাম লেখান। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া শুধু উত্তর কোরিয়া নয়, ভারতসহ একাধিক দেশ থেকে যুবকদের 'ভাড়াটে যোদ্ধা' হিসেবে ব্যবহার করছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলি খতিয়ে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত সাহিলের আটক হওয়া নিয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত জানুয়ারি মাসে ভারত সরকার জানিয়েছিল রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে নামা ১২ জন ভারতীয় নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১৬ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন।
দিল্লি শুরু থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় যোগ না দিয়ে ভারত বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সায় দিয়েছে।
কিন্তু গুজরাতের এই যুবকের ঘটনাটি আবারও সামনে এনে দিল প্রশ্নের মুখে।












Click it and Unblock the Notifications