করোনার আতঙ্কে ত্রস্ত গোটা বিশ্ব, অতীতে আর কোন মহামারী এমন হাহাকার ফেলেছে জানেন কি
করোনার আতঙ্কে ত্রস্ত গোটা বিশ্ব, অতীতে আর কোন মহামারী এমন হাহাকার ফেলেছে জানেন কি
চিনে একরকম মহামারীর আকার নিয়েছে করোনা ভাইরাস। মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই সাড়ে সাতশো ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত ৩৪,০০০-রও বেশি মানুষ। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এই মারণ ভাইরাস। যদিও করোনা একা নয় এর আগেও একাধিক মারণ ভাইরাস থাবা বসিয়েছে বিশ্বে। যার মদ্যে অন্যতম ইবোলা, জিকা, নিপা।

করোনা ভাইরাসের দাপট বাড়ছে
চিনের উহান শহরই এই ভাইরাসের উৎস্যস্থল। বাদুরে লুকিয়ে থাকা ভাইরাস প্রথমে সংক্রামিত হয়েছিল উহানের এক মহিলার শরীরে। তারপরেই সেটি বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এক দুই করে এখন প্রায় ৭০০-তে পৌঁেছ গিয়েছে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা। সদ্যোজত শিশু থেকে বৃদ্ধা কাউকেই ছাড়ছে না এই ভাইরাস। চিনের তিনটি শহর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। চিন থেকে ভারতেও পৌঁছে গিয়েছে করোনা ভাইরাস। েকরলের তিন জনের দেহে মিলেছে নোভাল করোনা ভাইরাস। অন্যদিকে মার্কিন এক নাগরিকের দেহেও করোনা ভাইরাস মিলেছে। চিন থেকে প্রায় ৩২৪ জন ভারতীয়কে বের করে আনা হয়েছে। এখনও আটকে রয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে করোনা মোকাবিলার পরিস্থিতি নেই বলে পাকিস্তানিদের সেখান থেকে সরায়নি ইমরান সরকার। মার্কিন নাগরিকদের আমেরিকা আগেই সরিয়ে এনেছে। কিছুতেই এই ভাইরাস থেকে মুক্তির পথ মিলছে না। এমনকী করোনা ভাইরাস িচহ্নিতকারী চিকিৎসকও মারা গিয়েছেন এই ভাইরাসের থাবায়। আতঙ্কে রয়েছে বিশ্বের সব দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সার্সের আক্রান্তদের মৃত্যুর সংখ্যা থেকেও ছাপিয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা।

সার্সের কোপে প্রাণ গিয়েেছ অসংখ্য মানুষের
এখনও পর্যন্ত মারণ জীবাণুর তালিকায় করোনা ভাইরাসের পরেই রয়েছে সার্সের স্থান। ২০০৩ সালে সন্ধান মিলেছিল সেই চিনেই। দক্ষিণ চিনের গুংডং প্রদেশে প্রথম সার্স ভাইরাসের সন্ধান মেলে। প্রায় ২৬টি দেশের ৮০০০ বাসিন্দা আক্রান্ত হয়েছিলেন সার্সের মত মারণ ভাইরাসে। কানাডা, হংকং, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনামে সবচেয়ে বেশি থাবা বসিয়ছিল সার্স। মারাত্মক সংক্রামক ছিল এই ভাইরাসও। শুকনো কাশি, ডাইরিয়া, শ্বাসকষ্ট এগুলিই ছিল সার্সের মূল লক্ষণ। ভারতেও হানা দিয়েছিল সার্স। তবে তার সংখ্যা ছিল নগন্য।

অসংখ্য মৃত্যু ইবোলাতে
১৯৭৬ সালে প্রথম এই ভাইরাসের সন্ধান মিলেছিল। কঙ্গোতে ইবোলা নদীর ধারে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে আফ্রিকায় একেবারে ত্রাস তৈরি করে ফেলেছিল এই মারণ ভাইরাস। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক আকার নিয়েছিল যে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকায় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে দেয়। আফ্রিকা থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল ইউরোপ এবং আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল গিনি এবং লাইবেরিয়া। ১১,৩০১ জনের মৃত্যু হয়েছে ইবোলার কোপে। এই রোগের লক্ষণ ছিল জ্বর, ডাইরিয়া, শরীরে যন্ত্রণা, রক্তক্ষরণ।

জিকার কোপে বেড়েছে মৃত্যু
২০১৫ সালে এই ভাইরাসের দেখা মেলে। প্রায় ৫০টি দেশে ছড়িয়েছিল এই জিকা ভাইরাস। শুধুমাত্র রিও ডি জেনিইরোতে ১০,০০০ আক্রান্ত হয়েছিল জিকাতে। ২০১৬-তে জনস্বার্থে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে জিকা। এই ভাইরাসের কোপে মূলত আসতেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা। যার প্রভাব পড়ত তাঁর গর্ভস্থ শিশুর উপরেও।

নিপার কোপে মৃত্যু ভারতে
নিপা ভাইরাস প্রথমে ছড়ায় ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায়। সেখানকার শূয়োর প্রতিপালকদের মধ্যেই এই ভাইরাস ছড়াতে শুরু করেছিল। তারপরে ২০০১ সালে বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসের সন্ধান মেলে। কিন্তু ভারতে নিপার দাপট ছিল সর্বাধিক। ২০১৮ সালে ভারতে নিপার কোপে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। যদিও একটি রাজ্যের মধ্যেই আটকে রাখা গিয়েছিল নিপার সংক্রমণ। এই ভাইরাসের উৎস্যস্থলও সেই বাদুর। কেরলের কোঝিকোড়ে এবং মাল্লপুরমে নিপার দাপটে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।












Click it and Unblock the Notifications