কোলন ক্যানসার ভয়ের নয়, এক সহজ পরীক্ষাই ফিরিয়ে দিতে পারে আপনার জীবন," মত আমেরিকার চিকিৎসকের
বিশ্ব জুড়ে ক্যানসারের ভয়ঙ্কর ছায়া দিনে দিনে ঘন হয়ে উঠছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা ডব্লিউ এইচ ও এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ নতুন করে কোলন ও কোলরেকটাল ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন, আর প্রাণ হারাবেন অন্তত ১৬ লক্ষ মানুষ। সংখ্যাটা এখনকার তুলনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ বেশি যা নিঃসন্দেহে অনেকটাই উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে এটি ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ। তবু আশার আলো জ্বলে আছে সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এই রোগ পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব।

তবে মার্কিন ফ্যামিলি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. ইম্যানুয়েল আগু জানিয়েছেন, কোলন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয় কোলনোস্কপি নামে একটি ছোট পরীক্ষার মাধ্যমেই ।
"আমি জানি, অনেকেই শুনে ভয় পান," স্বীকার করেন তিনি, "কিন্তু সত্যিটা হল এই পরীক্ষা বিপজ্জনক কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে পারে। চিকিৎসকেরা তখনই 'প্রিক্যানসেরাস পলিপস' সরিয়ে দিতে পারেন, যা সময়ের সঙ্গে ক্যানসারে রূপ নিতে পারতো।"
সম্প্রতি ৩১ বছর বয়সী এক নারীর কোলন ক্যানসার ধরা পড়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ঘটনার নিয়ে ড. আগু বলেন "৩১ বছর বয়সে এমন রোগ নির্ণয় হওয়া কেউই কল্পনা করে না। আমি তাঁর প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাই, পাশাপাশি তাঁদের প্রতিও, যারা এমন লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন।"
অনেকেই কোলনোস্কপি নিয়ে আতঙ্কিত থাকেন। কিন্তু ড. আগুহের মতে, "ভয় পাবেন না। সাধারণত এই প্রক্রিয়া সেডেশনের মাধ্যমে করা হয়-অর্থাৎ আপনি ঘুমিয়ে থাকবেন, কিছুই টের পাবেন না। একটু অস্বস্তি হয়তো থাকতে পারে, কিন্তু সেটুকু কষ্ট যদি জীবন বাঁচায়, তবে কি তা মূল্যহীন?"
সাধারণত ৩১ বছর বয়সে স্ক্রিনিংয়ের দরকার পড়ে না। তবু শরীরের ছোট পরিবর্তনও কখনও অবহেলা করবেন না কারণ সেগুলিই হতে পারে বিপদের সংকেত।
"আপনার শরীর যখন বার্তা দেয়, সেটি শুনুন," বলেন ড. আগু। "দরকার হলে পরীক্ষা করান। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে কোলন ক্যানসার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।" তবে "যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, তাঁদের জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং অপরিহার্য।
আবার যাঁদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাঁদের আরও আগেই সতর্ক হওয়া উচিত।"
তবে পরিশেষে বলাবাহুল্য ভয়কে নয়, পদক্ষেপকে বেছে নিন
"ভয় বা ভুল ধারণা যেন আপনার বাধা না হয়," বলেন ড. আগু।
"চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। যদি সময় এসে থাকে, কোলনোস্কপির তারিখ নির্ধারণ করুন। আজকের ছোট পদক্ষেপই হয়তো আপনার আগামী জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার হবে।"
তবে কোলন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। ৪৫ বছর বয়সের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো জরুরি। শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন উপেক্ষা করবেন না।
কোলনোস্কপি ভয়ের নয় এটি জীবনরক্ষাকারী এক পরীক্ষা।
তবে ভয় নয়, সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপই পারে ক্যানসারের অন্ধকারে আলো জ্বালাতে।












Click it and Unblock the Notifications