ইস্তাহারে নীরবতা ঘিরে ক্ষোভ, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ঐক্য পরিষদ
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমবর্ধমান হিংসা ও অনিশ্চয়তার অভিযোগ নতুন করে তীব্র হয়েছে। নির্বাচনের মুখে একের পর এক রাজনৈতিক দলের ইস্তাহার প্রকাশ পেলেও সেখানে সংখ্যালঘুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিষয়টি কার্যত উপেক্ষিত, এই অভিযোগ তুলে ক্ষোভ জানাল বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি হতাশা ও উদ্বেগের কথা স্পষ্টভাবে জানায়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। প্রাক্তন শাসকদল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে নেই তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ফলে লড়াইয়ে রয়েছে বিএনপি, জামাত, এনসিপি সহ একাধিক দল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ইস্তাহারগুলির দিকে তাকিয়েই ক্ষোভ দানা বেঁধেছে সংখ্যালঘু সংগঠনের মনে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার কোথাও নেই। নির্বাচনী প্রচারে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও তা সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে আস্থা ও ভরসা জাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এছাড়াও বিদেশি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়েও আপত্তি তুলেছে ঐক্য পরিষদ। তাদের দাবি, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাকে 'নিছক রাজনৈতিক বিষয়' হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিষয়টির গুরুত্ব লঘু করা হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলির এই ধরনের অবস্থান সংখ্যালঘু সমাজকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মত সংগঠনটির।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই অবহেলা শুধু হতাশাই নয় ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এর প্রভাব ভোটবাক্সেও পড়তে পারে বলে মনে করছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতও।












Click it and Unblock the Notifications