লাদাখে সংঘাতের মাঝেই শ্রীলঙ্কার নির্বাচনে চিনের পায়ের তলার জমি কাড়ল ভারত! স্লগ ওভারে টানটান কূটনীতি
লাদাখে সংঘাতের মাঝেই শ্রীলঙ্কার নির্বাচনে চিনের পায়ের তলার জমি কাড়ল ভারত! স্লগ ওভারে টানটান কূটনীত
লাদাখ সংঘাতের পারদ যখন চড়েছে ভারত চিন সীমান্তে, তখন দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কার পাদ চড়েছিল সেদেশের নির্বাচন নিয়ে। আর এই নির্বাচনে কূটনীতি একটি তাবড় ঘুঁটি হয়ে খেলা করে গিয়েছে বিভিন্ন ছকে। দাবার এক চালে ভুল হলেই, সম্পর্কের চ্যূতি ধরার প্রবল সম্ভবনা ছিল। তবে সেই খেলায় কার্যত চিনের পায়ের তলা থেকে মাটি কেড়ে নিয়েছে বেজিং।

টানটান কূটনীতির খেলা ও শ্রীলঙ্কার নির্বাচন
সমারোহ ছিল শ্রীলঙ্কা নির্বাচনের। আর সেখানে ছায়াযুদ্ধে দুই দিক থেকে খেলে চলেছিল ভারত ও চিন। লড়াই মূলত ছিল, কূটনৈতিক বিজয়ের। আর তাতেই ধাপে ধাপে বহু ঝুঁকির অঙ্কর কষে চিনের পায়র তলার মাটি কেড়ে নিয়েছে ভারত। শ্রীলঙ্কার নির্বাচনে রাজপক্ষের জয়ের পর এবার লাদাখ আবহে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক ও প্রয়োজনীয় নৈতিক সমর্থনের বিষয়ে আশাবাদী ভারত।

চিনের বিলগ্নীকরন ও শ্রীলঙ্কা
অন্যান্য দেশের মতোই বিলগ্নীর হাত ধরে শ্রীলঙ্কাকেও বশে আনার চেষ্টা করেছে চিন। চারদিক থেকে যাতে ভারতকে ঘিরে ফেলে কূটনৈতিক চাপে বিস্তারবাদ কায়েম করা যায়, তার সবরকমের চেষ্টা করেছে বেজিং। পরিসংখ্যান বলছে , রাজাপক্ষে আগের বার যখন মসনদে ছিলেন তখন প্রবল আর্থিক সংকটে ছিল শ্রীলঙ্কা। পাশে এসে দাঁডা়য় চিন। তারপর থেকে রাজাপক্ষে ভাইদের সঙ্গে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক খুবভালো হতে থাকে। শ্রীলঙ্কায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রজেক্টে হাত দেয় চিন। শুরু হয় একাধিক রাস্তা নির্মাণের কাজ।

চিন নরম মাটি বুঝেই...
এদিকে, চিন ধীরে ধীরে দেখে নিয়েছিল যে শ্রীলঙ্কা আর্থিকভাবে নরম মাটি! তাই সেদেশে বিলগ্নীর ক্ষেত্রে জাপান ও ভারতকে চিন পিছনে ফেলে দৌড়তে থাকে শ্রীলঙ্কায় লগ্নীর জন্য। আর তাতেই সেদেশের রাজনীতির অলিন্দে নাথা গলানোর চেষ্টা করে বেজিং।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও ভারত
জমি ছাড়েনি ভারত! রাজাপক্ষের সঙ্গে চিনের আঁতাত টের পেয়েছিল দিল্লিও। ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত রাজাপক্ষের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুবই জোরদার ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় আর্থিক অবনতির পর থেকে সেই সম্পর্কের মাঝে ঢুকে পড়ে চিন। আর এই জায়গা থেকেই ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শ্রীলঙ্কার আস্থা নিজের সপক্ষে নেওয়া।

শ্রীলঙ্কা ও ভারতের ঘুঁটি
মহিনা রাজাপক্ষের ভাই গতাব্যা রাজাপক্ষের প্রেসিডেন্ট থাকার সময়েও ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সম্পর্ক ভালো ছিল। কিন্তু লাদাখ আবহে শ্রীলঙ্কার সমর্থন পাওয়া দিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। ফলে রাজাপক্ষে বিপক্ষে থাকলেও তাঁকেই ভারতের তরফে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিতে শুরু করে দিল্লি। যদিও তা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবুও সেই দানের চালেই বাজিমাত করে দিল্লি।

এবার কোনদিকে তাকিয়ে দিল্লি
দিল্লি চাইছে ফের একবার রাজাপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক
২০১৫ সালের আগের মতো করে নিতে। শ্রীলঙ্কায় ভারত ইতিমধ্যেই ৬৫ টি প্রকল্পের কাজ করেছে। আর এবার আরও ২০ টি প্রকল্প সেখানে তৈরি করার কথা ভাবছে দেশ।












Click it and Unblock the Notifications