টিকা না আসা পর্যন্ত করোনা যুদ্ধে নয়া জিয়নকাঠি নাইট্রিক অক্সাইড? নতুন গবেষণা কী বলছে জানুন
টিকা না আসা পর্যন্ত করোনা যুদ্ধে নয়া জিয়নকাঠি নাইট্রিক অক্সাইড? নতুন গবেষণা কী বলছে জানুন
দিন যত গড়াচ্ছে ক্রমেই করোনা গ্রাসে তলিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। একাধিক দেশেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের করোনা সংক্রমণ। উদ্বেগ বাড়ছে আমেরিকা ভারতেও। এমতাবস্থায় করোনার প্রতিষেধকের খোঁজে হন্যে হয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা। সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে এতদিন রেমডেসিভির প্রয়োগ করা হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টের জেরে এই ড্রাগের ভূমিকাও এখন প্রশ্নের মুখে। এদিকে নতুন একটি গবেষণায় নাইট্রিক অক্সাইডের করোনারোধী শক্তির খোঁজ মেলায় নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন গবেষকরা।

করোনা প্রতিরোধী কতটা কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে নাইট্রিক অক্সাইড ?
মানবদেহে প্রকৃতির নিয়মেই তৈরি হয় নাইট্রিক অক্সাইড। দেহের রক্তবহনকারী নালিকাগুলিকে প্রসারিত করে রক্তসঞ্চালনের পরিমাণ বৃদ্ধিতে নাইট্রিক অক্সাইডের ভূমিকা তুলনাহীন। সম্প্রতি সুইডেনের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, দেহে নিজেদের বংশবৃদ্ধিতে যে উৎসেচক বা 'প্রোটিজ' ব্যবহার করে এসএআরএস-সিওভি-২ বা কোভিড-১৯ ভাইরাস, তার পরিমাণ কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখে এই নাইট্রিক অক্সাইড। গবেষণায় হনুমানের কোষকে নমুনা হিসেবে ব্যবহার করেন গবেষকরা।

বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা ভেবে চিন্তায় গবেষকেরা
গবেষণার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা করোনা চিকিৎসায় নাইট্রিক অক্সাইড ব্যবহারের কথা ভাবছেন। আগামীতে এই যৌগ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে ঘ্রাণের মাধ্যমে প্রবেশ করানোর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে খবর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই নাইট্রিক অক্সাইড আসলে বিশ্ব উষ্ণায়নের কালপ্রিটদের মধ্যে অন্যতম। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, "সাম্প্রতিক এবং পূর্ব কোভিড গবেষণাগুলির উপর ভিত্তি করে চিকিৎসায় নাইট্রিক অক্সাইড ব্যবহারের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দরকার।"

নাইট্রিক অক্সাইডের সুখ্যাতি রয়েছে অতীতেই
সূত্রের খবর, ২০০২-০৩ সালে এসএআরএস-সিওভি ভাইরাসের কারণে যে আতঙ্কের সূত্রপাত হয়, তারই গবেষণায় ২০০৫ সালে জানা যায় যে এই ভাইরাসকে নিজের জমজ তৈরিতে বাধা দেয় নাইট্রিক অক্সাইড। কোভিড-১৯-এর এসএআরএস-সিওভি-২ ভাইরাসের সাথে এর পূর্বসূরির মিল যথেষ্ট, আর তাই আশা জোগাচ্ছে গবেষণা। অন্যদিকে জানা যায় যে, অতীতেও হান্টাভাইরাস, হারপসভাইরাস ও কগজ্যাকি ভাইরাসের মতো নানান অণুজীবকে রুখেছে নাইট্রিক অক্সাইড।

নাইট্রিক অক্সাইডের উপর চলছে গবেষণা, ফল আশাপ্রদ
অন্যদিকে অপর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, করোনায় শ্বাসকষ্টের স্বীকার হয়েছেন এমন রোগীকে নাইট্রিক অক্সাইড শোঁকানোর ফলে তার দেহে অক্সিজেনের মাত্রা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে করোনায় অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ হিসেবে নেপথ্যে থাকছে দেহে অক্সিজেনের ঘাটতি। ফলে নাইট্রিক অক্সাইডকে ঘ্রাণের সঙ্গে দেহে প্রবেশ করানোর ফল যদি আশামূলক হয়, তবে করোনার প্রতিষেধক না আসা পর্যন্ত তাই যে করোনা আক্রান্তদের জন্য জিয়নকাঠি হয়ে দাঁড়াবে তা বলাই বাহুল্য।












Click it and Unblock the Notifications